বুধবার, অক্টোবর ১৬

ফিশারির হিসেব নিয়ে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ, ব্যাপক বোমাবাজিতে উত্তপ্ত বাসন্তী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বাসন্তী। ভরতগড় অঞ্চলে দু’পক্ষের সংঘর্ষে সোমবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত চলল মুহুর্মুহু বোমাবাজি। জানা গিয়েছে এই ঘটনায় আহত হয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা, আজিজ মোল্লা-সহ বেশ কয়েকজন মহিলা।

বাসন্তী থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। নামাতে হয় র‍্যাফ। আহতদের ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। এর মধ্যে এক মহিলার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।

বাসন্তীর গোষ্ঠী সংঘর্ষ নতুন ঘটনা নয়। এর এগেও গত কয়েক বছরে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার এই জনপদ শাসকের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে উত্তপ্ত হয়েছে। এবং প্রতিবারই কারণ হচ্ছে ভেড়ির দখল। তবে এ বার সরকারি ফিশারি প্রকল্পের হিসেব নিয়ে রণক্ষেত্র হল বাসন্তী।

শওকত মোল্লাদের অভিযোগ, তৃণমূলের স্থানীয় নেতা মহম্মদ ইয়াকুব ফিশারির হিসেব দিচ্ছেন না। তাঁদের সন্দেহ, ওই নেতা টাকা খেয়েছেন। ফলে এখানেও কাটমানির বিষয়টি সামনে চলে এসেছে। যদিও ইয়াকুবদের বক্তব্য, শওকতরা টাকা খেতে পারেনি বলেই বোমাবাজি করেছে।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকট, তা কয়েক মাস আগে প্রশাসনিক সভায় স্বীকার করে নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। জয়নগরের বিধায়ককে গুলি করার ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী গোসাবার সভা থেকে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের বলেছিলেন, “আপনারা কী করছেন? এত অস্ত্র আসছে কোথা থেকে? নিজেরা গণ্ডগোল করবে আর মানুষ সাফার করবে? আপনারা শিগগির ব্যবস্থা নিন। কোনও রঙ দেখবেন না।”

তারপর ভোট গিয়েছে। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় তিনে তিন পেয়েছে তৃণমূল। তবু কোন্দল কাঁটা বিঁধেই রইল।

Comments are closed.