মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

আসানসোলে শ্যুটআউট, বাড়ির সামনেই খুন তৃণমূল কাউন্সিলর

  • 15
  •  
  •  
    15
    Shares

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের বাড়ির সামনেই দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হলেন আসানসোল পুরনিগমের তৃণমূল কাউন্সিলর খালিদ খান। এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশবাহিনী।

পুলিশ সূত্রে খবর, আসানসোল পুরনিগমের ৬৬ নম্বর তৃণমূল কাউন্সিলর এই খালিদ খান। শনিবার রাতে কুলটির বরাকর মনবেড়িয়াতে নিজের বাড়ির সামনেই তাঁকে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় আসানসোল জেলা হাসপাতালে। সেখানে ডাক্তাররা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খালেদের খুনের খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে পৌঁছন আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি। আসেন অন্যান্য তৃণমূল নেতারাও। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।

এ দিন নিহত তৃণমূল কাউন্সিলরের ভাই আরমান খানের দাবি, তাঁর দাদার জনপ্রিয়তা এই খুনের কারণ হয়ে দাঁড়ালো। তিনি বলেন, “দাদা নেতা হিসেবে খুব জনপ্রিয় ছিলেন। ওকে টিঙ্কু, কাদির, শাহিদরা হিংসে করত। ওরাও তৃণমূল করে। ওরা আমাদের আত্মীয়। ওরাই বাইকে করে এসে দাদাকে গুলি করেছে। দাদাকে প্রথমে পায়ে গুলি করা হয়। তারপর দাদা মাটিতে পড়ে গেলে বুকে গুলি করে ওরা পালিয়ে যায়।” আরমান আরও বলেন, চার বছর আগে একবার খুন করার চেষ্টা হয়েছিল খালিদকে। সে বার গুলি করা হলেও খালিদ বেঁচে যান। কিন্তু এ বার আর শেষরক্ষা হলো না।

এই ঘটনার পর রবিবার সকাল থেকে দোষীদের শস্তির দাবিতে বরাকর বেগুনিয়া মোড়ে পথ অবরোধ শুরু করেন খালিদের অনুগত তৃণমূল কর্মী ও স্থানীয় মানুষরা। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করা হয়। এর ফলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় আসানসোল থানার পুলিশ। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে নামানো হয় কমব্যাট ফোর্স।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়েছে খালিদকে। তিনজনের নামে অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে অভিযুক্তদের তল্লাশি শুরু হয়েছে।

এ দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কুলটির বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। তিনি অবরোধকারীদের আশ্বাস দেন, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উজ্জ্বলবাবু স্বীকার করেন, কাউন্সিলর খুনে অভিযুক্ত শেখ কাদির যুব তৃণমূল নেতা। এই ঘটনার পর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার নির্দেশ দিয়েছেন বিধায়ক। উজ্জ্বলবাবু ও পুলিশের আশ্বাস পাওয়ায় অবশেষে অবরোধ ওঠে। তবে এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ময়নাতদন্তের পর বিকেলে খালিদ খানের দেহ নিয়ে আসা হয় বাড়িতে। এলাকার মানুষ বাড়ির সামনে ভিড় করেন। সেখানেই কিছুক্ষণ রাখা হয় মরদেহ। সেখানে আসেন বেশকিছু তৃণমূল নেতাও। আসেন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি, ডেপুটি মেয়র ও এলাকার কাউন্সিলর। জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, “খুব ভালো মানুষ ছিলেন খালিদ। কাউন্সিলর হিসেবেও ছিলেন খুব জনপ্রিয়। আমরা একটা ভালো মানুষকে হারালাম। এই ঘটনা খবই দুঃখজনক।” এলাকাতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সন্ধ্যায় কুলটি কবরস্থানে সমাধিস্থ করা হবে খালিদকে।

Comments are closed.