রবিবার, এপ্রিল ২১

বেছে বেছে কেন দাগি পুলিশ অফিসারদেরই বাংলায় পাঠানো হচ্ছে, কমিশনকে চিঠি তৃণমূলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার একাধিক পুলিশ অফিসারকে সরাতে যখন কমিশনের উপর চাপের পর চাপ তৈরি করছে বিজেপি, ঠিক তখনই কমিশনকে পাল্টা চাপ দেওয়া শুরু করে দিল তৃণমূল কংগ্রেসও। কমিশন নিযুক্ত বাংলার বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক বিবেক দুবের ‘হিস্ট্রি’ উল্লেখ করে কমিশনকে চিঠি লিখল বাংলার শাসক দল। প্রশ্ন তুলল, কেন গায়ে দাগ থাকা এমন একজন পুলিশ অফিসারকে বাংলার দায়িত্ব দেওয়া হল?

কী দাগের কথা বলছে তৃণমূল?

২০০৯ সালে বিবেক দুবে যখন ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল, সেই সময় তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তাঁর নয়ডার বাড়ির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কনস্টেবল মুরলীনাথের রহস্য মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় পরোক্ষ যোগের অভিযোগে বিবেক দুবে এবং নয়ডার এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক আব্রাহাম লিঙ্কনকে সাওপেন্ড করা হয়। ২০০৯-এর ৩০ জুলাই মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র থেকে উদ্ধার হয়েছিল কনস্টেবল মুরলীনাথের দেহ। শুরু হয় বিভাগীয় তদন্ত। এক মাস কাটার আগেই ২৪ অগস্ট বিবেক দুবে এবং আব্রাহাম লিঙ্কনকে সাসপেন্ড করা হয়।

বিজেপি একাধিকবার কমিশনকে জানিয়েছে, বাংলার পুলিশ প্রশাসনে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের দিয়ে আর যাই হোক সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়। বারবার কমিশনের দরজায় তদ্বির করেছে গেরুয়া শিবির। কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের লাউডন স্ট্রিটের বাংলোয় সিবিআই হানার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নায় পুলিশ আধিকারিকদের পাশে বসার ছবিও কমিশনে দেয় বিজেপি। তারপর ব্যবস্থাও নিয়েছে কমিশন। কলকাতা ও বিধাননগরের কমিশনার পদ থেকে অনুজ শর্মা এবং জ্ঞানবন্ত সিংকে সরিয়ে দেওয়া সহ গত কয়েকদিনে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কোচবিহারের ভোট শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে ওই জেলার পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় আনা হয় বিহারে ডেপুটেশনে পাঠানো পুলিশ আধিকারিক অমিত কুমার সিংকে।

প্রথম দফার ভোট অবাধ হয়নি বলে শুক্রবারই কমিশন দফতরে বিক্ষোভ দেখিয়েছে বিজেপি। রাজ্যের মুকগ্য নির্বাচনী আধিকারিক আরিজ আফতাবকে ‘তৃণমূলের দালাল’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে সরানোর দাবিতে তাঁর ঘরের মেঝেতেই ধর্নায় বসে পড়েছিলেন মুকুল রায়রা। এ দিন চিঠি লিখে পাল্টা চাপ দেওয়া শুরু হয়ে গেল তৃণমূলের তরফেও। বিবেক গুপ্তকে সরানোর দাবি করা হয়নি শাসকদলের তরফে। শুধু কৌশলে প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল বোঝাতে চেয়েছে, অনুজ জ্ঞানবন্তদের যদি কমিশন সরাতে পারে তাহলে কেন বিবেক গুপ্তকে সরানো হবে না। তাঁর নামে তো শুধু অভিযোগ নয়, তিনি সাসপেন্ড ছিলেন। এখন দেখার কমিশন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Shares

Comments are closed.