রাজ্যপালের ডাকা বৈঠকে গেল চার দল, সাংবাদিকদের এড়াল তৃণমূল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আগেই নিজের উদ্বেগের কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে বলে এসেছিলেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী। সন্দেশখালি-সহ ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজ্যের প্রধান চারটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের রাজভবনে ডেকেছিলেন রাজ্যপাল। ওই বৈঠক শেষে বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেও, চুপ রইল শাসক দল তৃণমূল।

    এ দিন বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়, রাজ্য বিজেপি-র অন্যতম মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র এবং সিপিএম পলিট ব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম। বৈঠক শেষে রাজভবনের দক্ষিণ গেটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জয়প্রকাশ বলেন, “রাজ্যপাল আজকের এই বৈঠক ডেকেই বুঝিয়ে দিয়েছেন বাংলায় শান্তি নেই। রাজ্য জুড়ে হিংসা চলছে।” সেলিম এবং সযোমেন এক সুরে অভিযোগ করেন, “একদিকে বিজেপি ধর্মের নামে রাজনীতি করছে আর আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা শাসক দল বানালি-অবাঙালির রাজনীতি করছে। এই দুই বিভাজনের রাজনীতির জন্যই বাংলায় জেলায় জেলায় হিংসা চলছে।

    বিরোধী দলের নেতাদের অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অথচ প্রশাসন নীরব। তাঁদের কথায়, নবান্নের কোনও নিয়ন্ত্রণই নেই প্রশাসনের উপর। লাগামহীন দৌরাত্ম্য চালাচ্ছে সমাজবিরোধীরা।

    এ দিন পার্থবাবু সাংবাদিকদের মুখোমুখিই হননি। পরে তাঁর সঙ্গে ফোনেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। দু’বারই ফোন বেজে যায় তাঁর। কোনও জবাব পাওয়া যায়নি। পরে প্রতিক্রিয়া পেলে এই প্রতিবেদনে তা আপডেট করা হবে।

    সন্ধেবেলা রাজভবনের তরফে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়, রাজনৈতিক নেতাদের কথা বলার ক্ষেত্রে আরও সংযত হতে হবে। এবং সংবাদ মাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন রাজ্যপাল।

    পার্থববাবু মুখ না খুললেও বাকি তিন দলের প্রতিনিধিরাই জানিয়েছেন, বাংলায় যা ঘটছে তা নিয়ে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রীতিমতো আতঙ্কিত। সোমেন মিত্র বলেন, “রাজ্যপাল বলেছেন, আমি তো আর সরকারের এক্সিকিউটিভদের ডেকে বলতে পারছি না। তাই আপনাদের বলছি। দেখুন। বাংলায় শান্তি ফেরান।”

    প্রসঙ্গত, সন্দেশখালির ঘটনার পর থেকেই রাজভবনের সঙ্গে নবান্নের সংঘাত বেঁধে গিয়েছে। দিল্লিতে গিয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে চাঁচাছোলা ভাষায় বলে এসেছেন। বিদ্যাসাগরের মূর্তি উন্মোচনের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীও তোপ দাগেন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে। বলেন, “আমি রাজ্যপালকে সম্মান করি কিন্তু ওঁর ভাষনকে সম্মান করি না।” পর্যবেক্ষকদের মতে, অস্বাস্তিকর প্রশ্ন এড়াতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি তৃণমূলের মহাসচিব।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More