শুক্রবার, অক্টোবর ১৮

বুলন্দসহরের ছায়া বাংলায়! ‘গরু চুরি’র অভিযোগে রণক্ষেত্র দুর্গাপুর, রক্তাক্ত তিন পুলিশকর্মী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘গরু চুরি’র অভিযোগে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল শিল্পনগরী দুর্গাপুর। জনতার ইটবৃষ্টিতে মাথা ফাটল তিন পুলিশকর্মীর। গোটা ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের বুলন্দসহরের ছায়া দেখছেন অনেকই।

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি ট্রাক এসে দাঁড়ায় স্টিল হাউসের মাঠের সামনে। গাড়ি থেকে পাঁচজন নেমে এসে চড়তে থাকা দুটি গরুকে গাড়িতে তুলতে যায়। এরপরই স্থানীয়রা ঘিরে ফেলে ওই পাঁচজনকে। এর মধ্যে তিনজন ভিড়ের সুযোগে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দু’জনকে বেপরোয়া মারতে শুরু করে এলাকার লোকজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় দুর্গাপুর থানার পুলিশ। জনতার হাতে আটক দু’জনকে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে নিতে গেলেই শুরু হয় সংঘর্ষ। টানাহেঁচড়া করলে জনতার দিক থেকে ইটবৃষ্টি শুরু হয় বলে অভিযোগ। মাথা ফাটে তিন পুলিশকর্মীর। আহত হন আটক দু’জনও।

সংঘর্ষের ঘটনায় রবিবার রাত পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ‘গরু চোর’ সন্দেহে আটক দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গলসীর এক ব্যক্তির নাম পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

গোটা ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। এমনিতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গণপিটুনির ঘটনা নিয়ে বারবার বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। বাংলায় যাতে এই ধরনের কোনও ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে কঠোর মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসন সূত্রে খবর, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে অবিলম্বে।

৩ ডিসেম্বর উত্তরপ্রদেশের বুলন্দসহর গো হত্যার গুজব নিয়ে ভয়াবহ আকার নিয়েছিল। জনতার আক্রমণে সুবোধ কুমার সিং নামের এক পুলিশ কর্তার মৃত্যুও হয় ওই ঘটনায়। তা নিয়ে তোলপাড় হয়েছে জাতীয় রাজনীতি। ওই ঘটনা নিয়ে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের মন্তব্যে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ চড়েছে। এমনকী, ক্রিসমাসের অনুষ্ঠানে নাসিরকে সমর্থনও করেছেন মমতা। তাঁর রাজ্যে এমন ঘটনায়, অপরাধীদের রেয়াত করা হবে না বলেই মনে করছেন প্রশাসনের একটা বড় অংশ।

Comments are closed.