টানা পাঁচদিন হাঁটার পরে পেলেন পুলিশের সহায়তা, পেঁয়াজের ফিরতি গাড়িতে মহারাষ্ট্রের পথে তিন পরিবার

করোনার আশঙ্কায় আশ্রয় জোটেনি কোথাও। খাবার জুটছিল চেয়েচিন্তে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: টাকা-পসয়া ও খাবার দিয়ে সাহায্য করলেও টানা চার দিন ধরে আশ্রয় জোটাতে পারেননি। স্ত্রী ও শিশু সন্তানদের নিয়ে তাঁরা কোন্নগর থেকে হাওড়া, সেখান থেকে খড়্গপুর পৌঁছান হেঁটে। অবশেষে পঞ্চম দিনে পুলিশের সহায়তাতেই দেশজোড়া লকডাউনের মধ্যে ঘরে ফেরার উপায় হল মহারাষ্ট্র থেকে আসা তিনটি শ্রমিক পরিবারের।

    হুগলির কোন্নগরে রাস্তার কাজ করতে এসেছিলেন মহারাষ্ট্রের ওয়াসিম জেলার রমেশ উত্তর নরওয়াড়ি, সাহেবরাও কালাকার ও আরও একজনের পরিবার। থাকতেন রাস্তার ধারে ঝুপড়ি করে। দেশজুড়ে লকডাউন ঘোষণা হয়ে যাওয়ার ফলে তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ততক্ষণে লোকাল ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁরা হেঁটে হাওড়ায় আসেন।

    রমেশ উত্তর নরওয়াড়ি বলেন, “আমরা হাওড়া স্টেশনে গেলে পুলিশ জানিয়ে দেয় যে উপরওয়ালার নির্দেশ আছে তাই স্টেশন চত্বরে থাকতে দেওয়া যাবে না। আমরা জানতে চাই কোনও ট্রেন আছে কিনা। ওঁরা জানিয়ে দেন যে কোনও ট্রেন নেই।”

    অন্য উপায় ভেবে না পেয়ে এরপরে তাঁরা একেবারে মহারাষ্ট্রের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। রাস্তায় অনেক বারই তাঁরা পুলিশের মুখোমুখি হয়েছেন। পুলিশ কখনও টাকা দিয়েছে আবার কখনও খেতে দিয়েছে কিন্তু থাকার দায়িত্ব নিতে পারেনি। তাঁদের কথায়, “এখন করোনা হচ্ছে বলে কেউ আমাদের থাকতে দিচ্ছে না।”

    যেতে যেতে যেখানে সন্ধ্যা হয়েছে সেখানেই তাঁরা রাত কাটিয়েছেন। কখনও গাছের নীচে বা কখনও বাসের স্ট্যান্ডে। বাচ্চাগুলোও কদিন ধরে জল-বিস্কুট এসব খেয়ে রয়েছে। এভাবে মহিলা ও শিশু নিয়ে পাঁচ দিন ধরে তাঁরা খড়্গপুরে এসে পৌঁছান।

    খড়্গপুরে স্থানীয় লোকজন তিনটি পরিবারকে দেখে খবর দেন খড়্গপুর টাউন থানায়। থানা থেকেই একটি গুরুদ্বারে তাঁদের রাতে থাকার ব্যবস্থা করে দেয় ও কিছু টাকা দেয়। তাঁরা রাতে গুরুদ্বারেই ছিলেন এবং সেখানেই খাওয়াদাওয়া করেছেন।

    এভাবে যে মহারাষ্ট্রে ফেরা সম্ভব নয় তা পুলিশকর্মীরা বুঝতে পারেন। তখন তাঁরা স্থির করেন যে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে আসা পেঁয়াজের গাড়িতে করে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন।

    জেলার সব পেঁয়াজ ঢোকে খড়্গপুরেই। সেই মতো একটি একটি গাড়িতে তাঁদের তুলে দেওয়া হয়।

    একসময় অন্য কিছু না পেলে ফিরতি জাহাজে মাটি পাঠানো হত। তবে পেঁয়াজের ফিরতি লরিতে প্রশাসনের উদ্যোগে মানুষ ফেরানোর নজির সম্ভবত নেই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More