রবিবার, এপ্রিল ২১

স্বাগত দাবদাহের নববর্ষ, সে দিন কিন্তু ৪০ ডিগ্রি!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দাবদাহের নববর্ষ নাকি!

আর তিনদিন পরেই বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাবে আম বাঙালি। এর মধ্যেই দোকানে দোকানে শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। কোথাও ছাড়, তো কোথাও আকর্ষনীয় অফার। পিছিয়ে নেই রেস্তোরাঁও। বিশেষ করে বাঙালি খাবারের জন্য নাম রয়েছে, এমন রেস্তোরাঁগুলি তো এই বিশেষ দিনের জন্য হরেক রকমের আইটেমের পসরা সাজিয়ে থাকে। তবে শুধু বাঙালি খাবারই নয়, তাঁর সঙ্গে মোগলাই, চাইনিজ বা কন্টিনেন্টাল খাবারের হরেক আইটেম থাকে। আর বেশ কিছুদিন আগে থেকেই এই বিশেষ দিনে জামা-কাপড় কেনার পাশাপাশি কী কী খাওয়া হবে, তার লিস্ট তৈরি করে রাখে উৎসবপ্রিয় বাঙালি। তবে এ বছর পয়লা বৈশাখের আনন্দে বাধ সাধতে পারে আবহাওয়া। এমনটাই পূর্বাভাস দিচ্ছে আবহাওয়া দফতর।

মার্চের শেষ থেকেই গরম বাড়া শুরু হয়েছে বাংলায়। প্রায় প্রত্যেকদিনই রোদের তেজ একটু একটু করে বাড়ছে। আর সেইসঙ্গে সন্ধ্যার পর প্রায় নিয়মিতই দেখা দিচ্ছে কালবৈশাখীর তাণ্ডব। এ বার গরম বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে কালবৈশাখী। সঙ্গী ঝোড়ো হাওয়া, বজ্রপাত। ফলে দিনের বেলায় ৩৩-৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকলেও রাতের দিকে তাপমাত্রা কমে ২৫-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়ে যাওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছিল মানুষ। কিন্তু আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, পয়লা বৈশাখের দিন তাপমাত্রা একধাক্কায় পৌঁছে যাবে ৪০-এর ঘরে। ফলে সে দিন রোদের তেজে কঠিন হয়ে পড়বে বাইরে বেরনো।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, শুক্রবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পয়লা বৈশাখ, অর্থাৎ আগামী সোমবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হবে। রিয়াল ফিল অর্থাৎ অনুভূতি হবে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো। হাওয়া অফিসের তরফে আরও জানানো হয়েছে, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি পেরিয়ে যাওয়া মানে দুপুরের দিকে কার্যত লু বইবে রাস্তাঘাটে। বাড়ি থেকে বেরনো কঠিন হয়ে উঠবে সাধারণ মানুষের।

আর এত গরমে রেস্তোরাঁর গুরুপাক খাবার যে শরীরের পক্ষে মোটেই ভালো নয়, তা জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের বক্তব্য, এই প্রচণ্ড গরমে রেস্তোরাঁর তেল-ঝাল-মশলার খাবার খেলে তা হয়তো সাময়িক আনন্দ দেবে, কিন্তু তাতে শরীর খারাপ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। আর শরীর খারাপ হয়ে গেলে তো পুরো আনন্দটাই মাটি। তাই চিকিৎসকরা বলছেন, এই গরমে ইলিশ ভাপা, কিংবা চিকেন কষার থেকে অনেক ভালো খাবার পাতলা ঝোলের মাছ, কিংবা শুক্তো। সঙ্গে পেট ঠাণ্ডা করার জন্য টক দই কিংবা শরবত চলতেই পারে। তবে যা খাবেন, অল্প করে খাবেন। আর তাহলেই খানা-পিনার পাশাপাশি পয়লা বৈশাখের মজাটাও পেতে পারবেন।

কী বাঙালি, শুনছেন তো!

Shares

Comments are closed.