রবিবার, নভেম্বর ১৭

শীত পড়ে গেল নাকি, কালীপুজোর আগেই সকাল থেকে বেশ ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার থেকেই আবহাওয়া উন্নতি হবে, কমবে বৃষ্টি এমনটাই জানিয়েছিল আলিপুর হাওয়া অফিস। কিন্তু এ দিন সকাল থেকেও আকাশে রয়েছে মেঘের ঘনঘটা। সঙ্গে বেশ ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ঠান্ডা ভেজা হাওয়া বইছে দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্র। জলীয় বাষ্প পূর্ণ বাতাস যথেষ্ট শুষ্ক এবং রুক্ষ। যা দেখে অনেকেই বলছেন, তাহলে কি কালীপুজোর আগেই এ বার শীত পড়ে গেল! এ দিন ভোরে বাতাসের তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি সেন্টেগ্রেডের কাছাকাছি।

পরিসংখ্যান হোক বা ট্রেন্ড, একটা সময় দুর্গাপুজোর পর থেকেই বাতাসে একটা শিরশিরানি অনুভব করতে পারতেন দক্ষিণবঙ্গবাসী। কালীপুজোর আগে তো মোটামুটি ঠান্ডাও পড়ে যেত। উত্তরবঙ্গে পারদ নেমে যেত আরও বেশি। মরশুমের প্রথম শীতে শরীর যেন খারাপ না হয় সে জন্য ছোট্ট শিশুর দেখভালের প্রতি বিশেষ নজর দিতেন মা-বাবারা। কিন্তু গত কয়েক বছরে সে সব দৃশ্য দেখা যায়নি দক্ষিণবঙ্গে। বরং শীতের আশায় হাপিত্যেশ করেছে আমজনতা। কালীপুজো, ভাইফোঁটা সব পেরিয়ে গেলেও শীতের দেখা মিলেছে বহু দেরিতে।

তবে চলতি বছর বোধহয় সব ট্রেন্ড ভেঙে রেকর্ড গড়ে আসতে চলেছে শীত। আবহাওয়া দফতর এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে এখনও কিছু জানায়নি। তবে গত কয়েকদিনের নাগাড়ে বর্ষণের ফলে সপ্তাহান্তে পারদ যে এক ধাক্কায় বেশ খানিকটা নামতে পারে সেই পূর্বাভাস আগেই দিয়েছিলেন আবহবিদরা। সোশ্যাল মিডিয়াতেও শীতের আগমন সম্পর্কে ছড়িয়ে গিয়েছে নানান মিম। কোথাও লেখা ফ্যান চালানোর দিন শেষ। কোথাও বা বলা হয়েছে ফ্যান চালিয়ে গায়ে কাঁথা দেওয়া হবে নাকি বন্ধ রাখা হবে ফ্যান, তা নিয়ে বিভ্রান্ত জনতা।

গত বুধবার থেকে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় শুরু হয়েছিল বৃষ্টি। দাপট কম থাকলেও স্থায়িত্ব ছিল মারাত্মক। বুধবার বিকেলের পর থেকে শুক্রবার মাঝ রাত পর্যন্ত প্রায় নাগাড়ে বৃষ্টি হয়েছে উত্তর এবং দক্ষিণ দুই বঙ্গেই। হাওয়া অফিস জানিয়েছিল, গোটা রাজ্যে এমন টানা বৃষ্টির কারণ গভীর নিম্নচাপ এবং ঘূর্ণাবর্ত। গত ৪৮ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী হয়েছে দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমের জেলাগুলিতে। এই তালিকায় ছিল ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই মেদিনীপুর এবং বর্ধমানও। উত্তরের বেশ কিছু জেলা যেমন মালদা, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে।

আলিপুর হাওয়া অফিসের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে অবস্থান করছিল নিম্নচাপ। এর জেরেই প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প সমেত হাওয়া ঢুকেছিল রাজ্যে। তার জেরেই এমন টানা বৃষ্টি হয়েছে গত কয়েকদিনে। এক ধাক্কায় তাপমাত্রারও হেরফের হয়েছে অনেকটাই। শনিবার সকাল থেকে সে ভাবে বৃষ্টি না হলেও মেঘলা রয়েছে আকাশ। সঙ্গে মরশুমের প্রথম শীতের হাল্কা শিরশিরানি আমেজ উপভোগ করছেন সাধারণ মানুষ।

শনিবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ শহরের তাপমাত্রা থাকবে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাতের দিকে পারদ আরও নামতে পারে বলেই পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের। আজ শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসসিয়াসের আশেপাশে থাকবে।

পড়ুন দ্য ওয়াল-এর পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

মায়ের সঙ্গে কথাবার্তা

Comments are closed.