ফের উত্তপ্ত ভদ্রেশ্বরের তেলিনিপাড়া, দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে মুড়িমুড়কির মতো বোমাবাজি, পিছু হঠল পুলিশ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার সারা বিকেল-সন্ধে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল হুগলির ভদ্রেশ্বরের তেলিনিপাড়ায়। তারপর পুলিশি ধরপাকড় এবং রুটমার্চের পর সোমবার দিনটা আপাত ভাবে শান্তই ছিল। কিন্তু ছাইয়ের নীচে আগুন যে ধিকিধিকি জ্বলছিল তার প্রমাণ পাওয়া গেল মঙ্গলবার দুপুরে। দফায় দফায় চলল সংঘর্ষ। মুড়িমুড়কির মতো বোমা পড়ল এলাকায়। অগ্নিসংযোগ করা হল বেশ কয়েকটি দোকানে। সেই আগুন নেভাতে ছুটতে হল দমকলের বাহিনীকে।

    এদিন পরিস্থিতি এমন জায়গায় যে, পিছু হঠতে হয় পুলিশ ও র‍্যাফকেও। চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীর ওই এলাকায় গিয়েছেন। দুপুরের পর পরিস্থিতি কিছুটা ঠান্ডা হয়েছে বলে খবর। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ওই এলাকায় শান্তি ফেরাতে প্রশাসন সবরকম উদ্যোগ নিচ্ছে।

    গতকাল রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের টুইটার হ্যান্ডল থেকে দাবি করা হয় তেলিনিপাড়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনা গিয়েছে। কিন্তু তা যে সাময়িক তার প্রমাণ মিলল এদিন।

    গোটা ঘটনায় আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ। চাঁপদানি, ভ্দ্রেশ্বর, চন্দননগরের সাধারণ মানুষ কার্যত তঠস্থ হয়ে রয়েছেন। সামান্য বাজারহাট করতে বেরোতেও ভয় পাচ্ছেন তাঁরা। তেলিনিপাড়া হাইস্কুলের এক শিক্ষক বলেন, “আমার বৃদ্ধা মায়ের জন্য সন্ধেবেলা ওষুধ কিনতে যেতে হবে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি না ওষুধের দোকানে গেলে আমার গায়ে বোমা এসে পড়বে কিনা।”

    এদিনও সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। অন্যদিকে এই ঘটনা নিয়ে রাজ্যপালের দ্বারস্থ হয়েছে বিজেপি। মঙ্গলবার রাজ ভবনে যান বিজেপি নেতা মুকুল রায়, হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, ব্যারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং-সহ বিজেপির প্রতিনিধি দল। লকেট বলেন, “একটা ছোট জায়গায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। এটা প্রশাসনের ব্যর্থতা।” রাজ্য বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী আরও বলেন, “রাজ্যে সর্বত্র পুলিশ জীবন বাজি রেখে করোনার বিরুদ্ধে পুলিশ কাজ করছে। তেলিনিপাড়ায় যখন গন্ডগোল থামানো যাচ্ছে না তার মানে প্রশাসনের সর্বোচ্চ ব্যক্তির নির্দেশ নেই তাই এটা চলছে।”

    পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়েছে যে সদ্য চালু হওয়া লাগোয়া এলাকার জুটমিল গুলিতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হুগলির শেওড়াফুলির বাসিন্দা তেলিনিপাড়া শ্যামনগর নর্থ জুটমিলের এক শ্রমিকবলেন, “এতদিন লকডাউনের জন্য কাজ ছিল না। আজ কাজ শুরু হতে নতুন চিন্তা মিল থেকে বাড়ি যাব কী করে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More