এনআরসি আতঙ্ক বীরভূমে, ‘স্মার্টফোন লিটারেসি’-র তথ্য সংগ্রহে যুক্ত মহিলার বাড়িতে আগুন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্মার্টফোন লিটারেসির তথ্য জোগাড়ের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে সার্ভে করছিলেন বছর উনিশের তরুণী চুমকি খাতুন। টাটা এবং গুগলের যৌথ উদ্যোগে চলছিল এই কাজ। তবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বেসরকারি মহিলা কর্মীর এভাবে তথ্য জোগাড় করা দেখেই শুরু হয় আতঙ্ক। নিমেষেই গুজব ছড়িয়ে যায় যে এনআরসি-র জন্য তথ্য সংগ্রহ করছেন এই তরুণী। অকারণ আতঙ্ক এবং গুজবের জেরে তরুণীর বাড়িতে ভাঙচুর চালায় স্থানীয়রা। এমনকি তাঁর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ।

এই ঘটনা ঘটেছে বীরভূমের ময়ূরেশ্বর-১ নং ব্লকের মল্লারপুর থানার গৌরবাজার এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ওই তরুণীর বাড়িতে ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। বুধবার বাড়িতে আগুনও লাগিয়ে দেওয়া হয়। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ওই মহিলার কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নিজের সংস্থার জন্য কাজ করতে গিয়ে ওই তরুণীকে যেভাবে হেনস্থা হতে হয়েছে তা নিয়ে সরব হয়েছেন অনেকেই। হালফিলে বেশ কিছু রাজনৈতিক নেতাদের মন্তব্যের জন্যেও এই ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন মহলের একাংশ।

প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরেই এনআরসি ইস্যুতে সরগরম রাজ্য-রাজনীতী। সংশোধনী নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) এবং এনআরসির বিরোধিতায় একাধিকবার পথে নেমেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ কিছু মিছিলেও হেঁটেছেন তিনি। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে শহর থেকে জেলায়। তবে এই ইস্যুতে বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের প্রতিবাদের ভাষা ছিল বেশ কড়া।

উল্লেখ্য, ক’দিন আগেই  বীরভূমের পাইকরে নাগরিকত্ব আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরোধিতা করতে গিয়ে বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল বলেছিলেন, “বাড়িতে সার্ভে করতে গেলে তাদের ঝাঁটাপেটা করবেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থাকতে আপনাদের চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু বাড়িতে যদি কেউ এসে পরিবারের বিস্তারিত সবকিছু জানতে চায়, তাহলে ঝাঁটাপেটা করবেন।’ এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেন, “বাড়িতে যাঁরা সার্ভে করতে এলেই তাঁদের উদ্দেশে ঢিল ছুড়ে মারবেন। দেখবেন পালিয়ে গেছে।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে শাসক দলের নেতৃত্বের এমন মন্তব্যের কারনে এলাকায় মানুষ অকারণ আতঙ্কিত হচ্ছে, গুজব রটছে।

যদিও পুলিশ জানিয়েছে, এখন এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More