‘বেসামাল সরকার, মানুষের সর্বনাশ বাড়ছে’, মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া চিঠি সুজন-মান্নানের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে কড়া ভাষায় চিঠি লিখলেন বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান এবং বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী।

    সোমবার বাম ও কংগ্রেস পরিষদীয় দলের তরফে ওই চিঠিতে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, মানুষ কী করবে, কোথায় যাবে, কোথায় টেস্ট হচ্ছে, কোন হাসপাতালে চিকিৎসা হচ্ছে—এই সমস্ত বিষয় সরকার স্পষ্ট করে জনসমক্ষে প্রকাশ করুক। নাহলে গোটা রাজ্য ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে।

    আরও পড়ুন: দুই হাসপাতাল ঘুরে মেডিক্যালের উঠোনে সকালে মৃত্যু জয়নগরের তরুণের, দুপুরে প্রাণ গেল আকড়ার তরুণীর

    এদিন ইছাপুরের তরুণ ও জয়নগরের যুবকের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু নিয়ে যাদবপুরের সিপিএম বিধায়ক বলেন, ইছাপুরের ১৮ বছরের ছেলেটা স্রেফ চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেল। আজকে জয়নগরের যুবকও একের পর এক হাসপাতাল ঘুরে কোথাও ঠাঁই পেল না। শেষে মেডিক্যাল কলেজে খোলা আকাশের নীচে মারা গেল। সরকারের কোনও হেলদোল নেই। এই সরকারের ন্যুনতম মানবিকতা বোধ নেই!

    বাম-কংগ্রেস পরিষদীয় দলের যৌথ চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারের ডাকা দু’দুটি সর্বদল বৈঠকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, ব্লক হাসপাতালগুলিতে ফিভার ক্লিনিক চালু করতে। কিন্তু সরকার তা করেনি। লকডাউনের সময়ে যে প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন ছিল তাও সরকার করেনি। উল্টে তথ্য গোপন করে সর্বনাশ করেছে। মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলার সরকারকে সরাসরি বেসামাল বলে আক্রমণ শানিয়েছেন সুজন, মান্নান।

    একই সঙ্গে বাম-কংগ্রেস পরিষদীয় দলের তরফে বলা হয়েছে, কোভিড পরিস্থিতিতে অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। ক্যানসার, কিডনির রোগী, হার্টের রোগী-সহ অন্যান্য রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে প্রতিদ্দিন মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ছেন। ১০ দফা দাবি জানানো হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে।

    এদিন বাম-কংগ্রেস নেতারা বলেন, “সারা পৃথিবীর মধ্যে ভারত যেমন ক্রমশ খারাপের দিকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। তেমন ভারতের মধ্যে পশ্চিমবাংলাও ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। সরকারের কোনও পরিকল্পনাই নেই। শুধু মুখেই বড় বড় কথা।”

    তাঁরা আরও বলেন, একদিকে কোভিড টেস্টে চূড়ান্ত হয়রানি হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তারপর টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ এলে সেই হয়রানি আরও বাড়ছে। মানুষ কোথায় যাবেন, কী করবেন বুঝতে পারছেন না। কারণ সরকার দিশা দেখাতে ব্যর্থ। বেসরকারি চিকিৎসায় যে বিরাট পরিমাণ খরচের মুখে সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে তাও নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন যাদবপুর ও চাঁপদানির বিধায়ক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More