Exclusive: লোকসভায় আর প্রার্থী হতে চান না, দলকে সাফ জানিয়ে দিলেন সুব্রত বক্সী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    শঙ্খদীপ দাস

    লোকসভা ভোটে তিনি যে আর প্রার্থী হতে রাজি নন, সে কথা গত বছরখানেক ধরেই দলের ঘরোয়া আলোচনায় বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন তৃণমূল রাজ্য সভাপতি তথা দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সাংসদ সুব্রত বক্সী। ব্যাপারটা যে সিরিয়াস তা অবশ্য তখনও অনেকেই বোঝেননি। ভেবেছিলেন, ‘বক্সীদা’ ওরকম বলছেন ঠিকই, দিদি বললে নিশ্চয়ই রাজি হয়ে যাবেন।

    কিন্তু বক্সীবাবু সম্ভবত অনড়ই। তৃণমূলের শীর্ষ সূত্রে জানা যাচ্ছে, দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে সুব্রতবাবু পষাপষ্টি জানিয়ে দিয়েছেন, উনিশের লোকসভা ভোটে তিনি আর প্রার্থী হবেন না। দিদি বললেও না। এ ব্যাপারে তিনি মনস্থির করে ফেলেছেন। আর নতুন করে ভাবার কোনও প্রশ্নই নেই।

    তৃণমূলের একটি সূত্র জানাচ্ছে, দলের রাজ্য সভাপতি বরাবরই একগুঁয়ে। একটু কড়া মেজাজের। তবু দিদি যদি পাল্টা জেদ ধরেন, তখন বক্সীদা কী করবেন তা অবশ্য পরিষ্কার নয়। তবে এটা ঠিক যে দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা আসনের জন্য বিকল্প প্রার্থীর সন্ধান শুরু হয়ে গিয়েছে।

    এ ব্যাপারে ‘দ্য ওয়ালের’ তরফে সুব্রত বক্সীকে ফোন করা হয়েছিল। তবে বক্সীবাবু রক্ষণশীল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন ডিজিট্যাল মাধ্যমে জনসংযোগ বা বার্তা দেওয়ার ব্যাপারে অনেকটাই স্বচ্ছন্দ হয়ে উঠেছেন, তখন রাজ্য সভাপতির সম্ভবত তাতে ভরসা নেই। হয়তো তাই তিনি স্বভাবসুলভ ভাবেই গলা খাঁকারি দিয়ে বলেন, “আমি কোনও নিউজ পোর্টালের সঙ্গে কথা বলি না।”

    ২০১১ সালে বিধানসভা ভোটে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর আসন থেকে প্রার্থী হয়ে জিতেছিলেন সুব্রতবাবু। রাজ্য মন্ত্রিসভায় তাঁকে তখন পূর্ত দফতরের মন্ত্রী করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা তখনও দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ। স্বাভাবিক নিয়মে এর পর মমতা লোকসভা থেকে ইস্তফা দেন, বক্সীবাবুকে বলেন বিধানসভা ও মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিতে। এর পর মমতার ছেড়ে যাওয়া দক্ষিণ কলকাতা লোকসভায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জিতে সাংসদ হন সুব্রত বক্সী।

    তৃণমূল রাজ্য সভাপতির ঘনিষ্ঠদের মতে, রাজ্যের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে সংসদে গিয়ে খুব একটা খুশি ছিলেন না বক্সীবাবু। সংসদে কোনওদিনই তাঁর বিশেষ মন ছিল না। উপস্থিতির হার ছিল খুবই কম। লোকসভার ওয়েবসাইট দেখলেই বোঝা যাবে, ষোড়শ লোকসভায় গত পাঁচ বছরে কোনও বিতর্কে অংশ নেননি সুব্রতবাবু, কোনও প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেননি, কোনও প্রাইভেট মেম্বার বিলও পেশ করেননি। কোনও লোকসভা কেন্দ্রের জনপ্রতিনিধি হিসাবে এহেন ভূমিকা সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য খুবই নেতিবাচক বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

    তবে অনেকের মতে, রাজ্য সভাপতি হিসাবে সাংগঠনিক কাজের চাপ ছিল। তাই হয়তো লোকসভায় সময় দিতে পারেননি তিনি।

    এখন প্রশ্ন হল, বক্সীবাবু প্রার্থী না হলে দক্ষিণ কলকাতায় তৃণমূলের নতুন মুখ কে? এ ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া দলের আর কারও কাছে সম্ভবত কোনও তথ্য নেই। তবে দলের শীর্ষ সারির এক নেতা বলেন, দক্ষিণ কলকাতায় পার্টির মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এটা তাঁর বরাবরের নির্বাচন কেন্দ্র। তাঁর নামেই ভোট হয়। এ বারও হবে। বক্সীদা তাঁর সিদ্ধান্তে যদি অটল থাকেন, তা হলে তাঁর আস্থাভাজন কাউকে প্রার্থী করে দেবেন দিদি।

    আরও পড়ুন

    কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, ইসলামিক রাষ্ট্রগুলিকে কড়া বার্তা ভারতের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More