কোটায় আটকে থাকা বাংলার ছাত্রছাত্রীদের ফেরানো হবে, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী, অধীরের উদ্যোগের পরই সিদ্ধান্ত বদল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের কোটায় আটকে থাকা বাংলার ছাত্রছাত্রীদের ফেরানোর ব্যাপারে রাতারাতি সিদ্ধান্ত বদল করে ফেলল নবান্ন।

    গত সপ্তাহে হাজারো অসুবিধার কথা উল্লেখ করে মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোটায় আটকে থাকা বাংলার ছাত্রছাত্রীদের এক্ষুণি রাজ্যে ফেরানো সম্ভব নয়। কিন্তু রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে হাত তুলে দেওয়ার পর, প্রথমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও পরে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেন লোকসভায় কংগ্রেস দলনেতা তথা বহরমপুরের পাঁচবারের সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী। রাজস্থান সরকার জানায়, তারা নিজেদের খরচে ছাত্রছাত্রীদের বাংলার সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেবে। তার পর সীমান্ত থেকে বিভিন্ন জেলায় তাদের বাড়িতে যেন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নবান্ন সে ব্যাপারে পরিষ্কার করে ‘হ্যাঁ’ বললে তবেই ছাত্রছাত্রীদের পাঠানোর কাজ শুরু করতে পারে তারা।

    দেখা গেল, প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির সেই তৎপরতার পরই সিদ্ধান্ত বদল করল নবান্ন। সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী টুইট করে জানিয়ে দিলেন, কোটায় আটকে থাকা বাংলার ছাত্রছাত্রীদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনা হবে শিগগির। তিনি বিষয়টি নিজে দেখছেন বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কোচিংয়ের জন্য বাংলার বহু ছাত্রাছাত্রী কোটার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশুনা করেন। তাঁদের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিনহাজার। লকডাউনের জন্য তাঁরা সেখানে আটকে পড়েছেন। রাজস্থান সরকারের তরফে রাজ্যগুলিকে আগেই অনুরোধ করা হয়েছিল তাঁদের ছেলেমেয়েদের ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। উত্তরপ্রদেশ ও অসম বাদে অবশ্য কোনও রাজ্যই তা করেনি। বিহার সরকার স্পষ্ট বলে দেয় তারা তাদের রাজ্যের ছেলেমেয়েদের ফেরাবে না।

    গত মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব রাজীব সিনহাও বলেন, “যে সাড়ে তিন হাজার-চার হাজার বাংলার ছাত্রছাত্রী রাজস্থানের কোটায় আটকে পড়েছেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। এটা বিশাল বড় একটা কাজ। অনেক জটিলতা রয়েছে। এতটা রাস্তা এতজনকে আনা সম্ভব নয়। আমরা অনুরোধ করব, এতদিন কষ্ট করেছেন। আর ক’টা দিন কষ্ট করুন।” তিনি আরও জানিয়েছিলেন, “ওই ছাত্রছাত্রীদের আনতে অন্তত ৩০০ বাস প্রয়োজন। এতটা রাস্তা সেই বাসগুলি যাবে এবং আসবে সেটা সম্ভব নয়। রাজস্থান থেকে বাংলায় ফিরতে কয়েকটা রাত হল্ট করাতে হবে। সেটাও এই পরিস্থিতিতে অসম্ভব।”

    এ দিন নবান্নের সিদ্ধান্ত বদলের পর অধীরবাবু বলেন, এখানে আমার কৃতিত্ব নেওয়ার ব্যাপার নেই। সে কথা মাথায় রেখে এসব করিওনি। মুখ্য সচিব সেদিন অবিবেচকের মতো কথা বলেছিলেন। অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদের অসহায়তার কথা ভাবেননি। তিনি জানান, কোটায় বাংলার ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন ছাত্রাবাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার টালবাহানা করায় রাজস্থান সরকারের সঙ্গে কথা বলে ছেলেমেয়েদের যথাসম্ভব এক জায়গায় এনে রাখা হয়েছে। তাদের খাওয়াদাওয়ার যাতে কোনও অসুবিধা না হয় সে ব্যাপারটা রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের তরফে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। এখন যত তাড়াতাড়ি ছেলেমেয়েদের ফেরানো যায় ততই মঙ্গল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More