সোমবার, জানুয়ারি ২০
TheWall
TheWall

পোশাক খুলে নেওয়ার অপমানে গুরুতর অসুস্থ ছাত্রী, দেওয়া হল না পরীক্ষা

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুলে আসার পরে খুলে নেওয়া হল ছাত্রীদের পোশাক! এই সাংঘাতিক অভিযোগ উঠেছে বোলপুরের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের বিরুদ্ধে। ভয়ে-আতঙ্কে-অপমানে-লজ্জায় তুমুল অসুস্থ হয়ে পড়েছে তাদের মধ্যে এক ছাত্রী। তার অভিভাবক জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকেই মেয়ের গায়ে ধুম জ্বর। সঙ্গে চলছে বমি। অবস্থা এতটাই গুরুতর যে বুধবার ইংরেজি পরীক্ষা দিতে স্কুলে আসতে পারেনি ওই ছাত্রী। প্রশ্ন উঠেছে, এই চরম অমানবিকতার দআয় কে নেবে!

স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম পরে স্কুলে আসেনি ছাত্রীরা। সে জন্যই নাকি ‘শাস্তি’ হিসেবে পড়ুয়ার লেগিংস খুলে নেওয়া হয়েছে প্রকাশ্যে। এক জন ছাত্রী নয়। অভিযোগ, স্কুল কর্তৃপক্ষ এমন করেছে ২৫ জন ছাত্রীর সঙ্গে।

অসুস্থ ছাত্রীটিকে যাতে অন্য দিন পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হয় সেজন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন ছাত্রীর অভিভাবক। জমা দেওয়া হয়েছে ডাক্তারের রিপোর্টও।

অভিভাবকদের কথায়, ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে মেয়েদের লেগিংস পরিয়ে পাঠিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু তা স্কুলের ড্রেস না হওয়ায় প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ২৫ ছাত্রীর লেগিংস খুলে নেওয়া হয়। প্রথম শ্রেণির কিছু ছাত্রীর লেগিংসের নীচে অন্তর্বাস পর্যন্ত ছিল না বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। স্কুল ছুটির পরেও নাকি ছাত্রীদের লেগিংস ফেরত দেওয়া হয়নি। ওই অবস্থায় বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাদের। কীভাবে স্কুল কর্তৃপক্ষ হতে পারে সেই প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা।

মঙ্গলবার বোলপুরের মকরমপুরের ওই বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর হতবাক হয়ে গিয়েছে সমাজের প্রায় সব স্তরের মানুষ। নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম পরে না আসায় কীভাবে একজন ছাত্রীর সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষ এমন অমানবিক এবং অসংবেদনশীল আচরণ করতে পারে তাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। মঙ্গলবার সকালেও স্কুলের গেটে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন অভিভাবকরা। বুধবারও জারি ছিল বিক্ষোভ। মঙ্গলবার ঘটনার পরেই শান্তিনিকেতন থানায় স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান অভিভাবকরা। দাবি একটাই, স্কুলের প্রিন্সিপাল এবং কর্তৃপক্ষকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। সেইসঙ্গে প্রিন্সিপালের বদলির দাবিও তুলেছেন তাঁরা। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর দফতরেও এই বিষয়ে আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

যদিও ওই স্কুলের প্রিন্সিপাল সিস্টার অর্চনার দাবি, ‘‘স্কুলে একটা নির্দিষ্ট পোশাক বিধি রয়েছে। সে সম্পর্কে আগেই অভিভাবকদের জানানো হয়েছিল। তারপরেও তারা অন্য পোশাক পরিয়ে মেয়েদের পাঠিয়েছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘কোথাও ভুল হচ্ছে। এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি।’’ তার উত্তরে অভিভাবকরা পাল্টা বলেন, ‘‘পোশাক যদি না খোলানো হবে, তা হলে সেগুলো আমাদের ফেরত দেওয়া হল কী করে? এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে প্রিন্সিপাল মিথ্যে বলছেন।’’

ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তলব করেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বুধবার সকালে বীরভূমের জেলাশাসকের নির্দেশে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলও স্কুল পরিদর্শন গিয়েছিল। প্রতিনিধিরা স্কুলের শিক্ষিকা এবং প্রিন্সিপালের সঙ্গে দেখা করেন। পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের কথাও শোনেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, সব পক্ষের কথা শোনার পর  জেলাশাসককে রিপোর্ট জমা দেবে এই প্রতিনিধি দল।

Share.

Comments are closed.