রাজ্যজুড়ে কড়া লকডাউন, কলকাতায় চলছে নাকা চেকিং-ধরপাকড়

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকাল থেকেই কড়া লকডাউনের ছবি রাজ্যজুড়ে। কলকাতা থেকে জেলা—সর্বত্রই এক ছবি। পুলিশি টহলের পাশাপাশি চলছে তল্লাশি। অকারণে রাস্তায় বেরলেই চলছে ধড়পাকড়। লালবাজার সূত্রে জানা যাচ্ছে, বৃহস্পতিবার সকাল ছ’টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত অন্তত ২৪টি কেস হয়েছে মহানগরে। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল এবং প্রাইভেট গাড়ি।

দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা এবং হাওড়ার দিক দিয়ে কলকাতায় ঢোকার প্রতিটি পয়েন্টে চলছে নাকা চেকিং। তাৎপর্যপূর্ণ হল, কলকাতার বাজারগুলিও সকাল থেকে অন্যদিনের তুলনায় অনেকটাই ফাঁকা ফাঁকা। অনেকের মতে, পরিস্থিতি আন্দাজ করেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আগে থেকে কিনে রেখেছেন নাগরিকরা।

কলকাতার মতো ছবি জেলাতেও। উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে আসানসোল, দুর্গাপুর, বর্ধমান, হুগলি-সহ সমস্ত জেলাতেই সকাল থেকে রাস্তায় নেমেছে বিরাট পুলিশ বাহিনী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী হাইওয়েতেও বেশ কিছু গাড়ি আটক করেছে পুলিশ। মোটর সাইকেল অথবা সাইকেলে রাস্তায় বেরলেই পুলিশ জানতে চাইছে কী জন্য ঘর থেকে বেরিয়েছেন? যথাযথ কারণ না দেখাতে পারলেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বাড়ি। কোথাও কোথাও তরুণদের শাসন করতে রাস্তার মাঝে কান ধরে উঠবস করাচ্ছে পুলিশ।

মহাত্মা গান্ধী রোড, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, রাসবিহারী, টালিগঞ্জ থেকে বেহালা, যাদবপুর— শহর কলকাতার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় বসেছে পুলিশ পিকেট। কাশীপুর, বেলগাছিয়া অঞ্চলে যেখানে সংক্রমণ ব্যাপক সেখানেও লকডাউন কার্যকর করতে ব্যাপক বাহিনী নামিয়েছে লালবাজার। পাইকপাড়া, পূর্ব সিঁথির বিভিন্ন গলিগালাতেও পুলিশ টহল দিচ্ছে।

কড়া লকডাউনের ছবি ধরা পড়েছে জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রামেও। বৃহস্পতিবার সকালে থেকেই জনশূন্য হয়ে পড়ে ঝাড়গ্রামের রাস্তা ঘাট, বন্ধ সব দোকান । ঝাড়গ্রাম শহরের সবজি বাজার ও মাছ মার্কেটও বন্ধ রয়েছে আজ । কেবলমাত্র খোলা রয়েছে ওষুধের দোকান এবং প্যাথলজিক্যাল ল্যাবগুলি।

সব মিলিয়ে সপ্তাহে দু’দিন ডাউনের প্রথম দিনেই কড়াকড়ির ছবি উঠে এসেছে সারা রাজ্যে। এই সপ্তাহে আগামী পরশু অর্থাৎ শনিবার ফের লকডাউন হবে। আগামী সপ্তাহে বুধবার হবে পূর্ণ লকডাউন। বুধবার ছাড়া পরের সপ্তাহে আর কোন দিন লকডাউন হবে বাংলায় তা সোমবার বৈঠকের পরে ঠিক হবে।

গত সপ্তাহেই স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের অনেকে মনে করছেন, বাংলার কোথাও কোথাও গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়ে গিয়েছে। তিনি আরও বলেছিলেন, সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে ‘সাডেন ব্রেক’ জরুরি বলে তাঁরা মনে করছেন। তাই সপ্তাহে দু’দিন লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More