রবিবার, নভেম্বর ১৭

কলকাতা-হাওড়ার বস্তিতে বেঁধে দেওয়া হল ঘরের মাপ, প্রোমোটাররাজ রুখতে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা ও হাওড়া কর্পোরেশনের বস্তি এলাকায় প্রোমোটাররাজ রুখতে পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানিয়ে দেন, এখন থেকে বস্তি এলাকার ঠিকা টেনেন্টদের লিজ দেবে সরকার। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বাড়ি সংস্কারের কাজ করতে গেলে, ভাড়াটেকে সঙ্গে নিয়েই তা করতে হবে।

বস্তি এলাকার মালিকানা সরকারের। এদিন ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এখন থেকে ঠিকা টেনেন্ট অর্থাৎ বস্তি এলাকার বাড়ি মালিকদের লিজ দেবে সরকার। তাঁরা চাইলে বাড়ি সংস্কার করতে পারবেন। এমনকি ফাঁকা জায়গায় নতুন নির্মাণ কাজও করতে পারবেন। কিন্তু সেই কাজ করতে কোনও প্রোমোটারকে ডাকা চলবে না। যদি ঠিকা টেনেন্টদের আর্থিক সাহায্য প্রয়োজন হয়, তাহলে সরকার ঋণের ব্যবস্থা করে দেবে। কিন্তু কোনও ভাবেই প্রোমোটারদের ডাকা যাবে না।

সরকারের তরফে এদিন এও বলা হয়েছে, ২৮৫ বর্গফুটের নীচে কোনও ঘর তৈরি করা যাবে না। মন্ত্রীর বক্তব্য, কলকাতা ও হাওড়ার বস্তি উন্নয়নের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্মাণ কাজ করতে হবে নতুন বিল্ডিং আইন মেনেই। অনেকের মতে, ছোট ছোট ঘর করে, বেশি সংখ্যায় ভাড়াটিয়া বসিয়ে বেশি মুনাফা করার ঝোঁক রয়েছে ঠিকা টেনেন্টদের মধ্যে। এই রকম পায়রার খোপের মতো ঘর স্বাস্থ্যের পক্ষে যেমন খারাপ ঠিক তেমন কোনও দুর্ঘটনা ঘটলেও উদ্ধার কাজে সমস্যা হয়। বস্তি এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটলে তা বারবার প্রত্যক্ষ করা গিয়েছে।

বস্তি এলাকায় প্রমোটাররাজের অভিযোগ নতুন নয়। হাওড়া এবং কলকাতা—গঙ্গার দু’পারেই এই সমস্যা গত কয়েক দশকের পরিচিত। বাড়ি সংস্কারের নামে বস্তি এলাকায় বহুতল নির্মাণের উদাহরণ দুই শহরেই ভুরি ভুরি। অনেকের মতে, এর সঙ্গে বিরাট একটি অসাধুচক্র জড়িয়ে রয়েছে। পুরসভার কর্মীদের একাংশের ভূমিকাও সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয় বলেও মনে করেন তাঁরা। এবার সেটাকেই রুখতে চাইছে সরকার।

পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯ – এ প্রকাশিত গল্প

Comments are closed.