বলবিন্দরের স্ত্রী ছেলেকে পুজোয় সালোয়ার-কুর্তা পাজামা উপহার মমতার, তুমুল চর্চা রাজনীতিতে

৩১

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তবে কি হাওড়া ময়দানের যুদ্ধ শেষ? সব শোধবোধ?

বলবিন্দর সিংয়ের স্ত্রী ছেলেকে পুজোয় সালোয়ার স্যুট, কুর্তা-পাজামা উপহার পাঠালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলবিন্দরের স্ত্রী তাতে আপ্লুত। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, দিদিকে প্রতি উপহার দিতে চান তিনি।

শুধু তা নয়, বলবিন্দরের পাগড়ি খুলে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দিল্লির যে শিখ সংগঠনের প্রতিনিধিরা হাওড়া থানাতে অবধি চলে এসেছিলেন, তাঁরাও খুশি। দিল্লির শিখ গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটির সভাপতি মনজিন্দর সিং এও দাবি করেছেন, বলবিন্দরকে সুবিচার দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল  বীরেন্দ্র।

ব্যাপারটা তা হলে কী দাঁড়াল?

এ ব্যাপারে তৃণমূল বা নবান্নের তরফে কিছু বলা হয়নি। বলবিন্দর এখনও জেল হেফাজতে রয়েছেন। সোমবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হবে।
তবে মমতার উপহার পাঠানোর ঘটনা নিয়েই জোর জল্পনা ও চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। বিজেপির নবান্ন অভিযানে সামিল হয়েছিলেন বলবিন্দর। সেদিন বেআইনি অস্ত্র রাখার কারণে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতারের সময়ে ধস্তাধস্তিতে তাঁর পাগড়ি খুলে যায়। সে ঘটনা নিয়ে শিখ সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশ যখন তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছিল, তখনও নবান্ন পষ্টাপষ্টি বলতে চেয়েছিল, পিছন থেকে কোনও রাজনৈতিক দল কলকাঠি নাড়ছে, সমাজে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে তারা। তা ছাড়া বলবিন্দর যে অপরাধ করেছে সে কথা প্রতিষ্ঠা করার জন্য ক্রমাগত সরকার বা পুলিশের তরফে জানানো হয়—যে আগ্নেয়াস্ত্র তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে তার লাইসেন্স নিয়ে সমস্যা কোথায় কোথায়!
অনেকের মতে, সেদিনের নবান্নের অবস্থান আর আজ দিদির ‘মানবিক’ অবস্থানের মধ্যে বিস্তর ফারাক। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, “একে বলা যেতে পারে ঠ্যালার নাম একুশের ভোট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পেয়েছেন। ওনার নির্বাচন কেন্দ্র ভবানীপুরে শিখ সম্প্রদায়ের প্রচুর মানুষ বাস করেন। অর্থাৎ ভোটার রয়েছেন। এমনিতেই নিজের পাড়ার ভোটে উনি পিছিয়ে পড়েছিলেন, উপরি এই বিতর্ক”। অধীরবাবুর কথায়, “ভয় ক্রমশ চেপে বসছে তৃণমূলের উপর”।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এও বলেন, “ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করিনা ওই ঘটনায় পুলিশের কোনও দোষ ছিল। বিক্ষোভের সময় ধস্তাধস্তিতে পাগড়ি খুলে যেতেই পারে। সেটা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।”

বস্তুত দুদিন আগে থেকেই শিখ সম্প্রদায়ের কিছু নেতা দাবি করছিলেন যে নবান্নের সঙ্গে তাঁদের সমঝোতা হয়েছে। তাঁদের এও দাবি ছিল, সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলবিন্দরের উপর থেকে সব মামলা তুলে নেওয়া হবে। তবে নবান্ন তখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

তাৎপর্যপূর্ণ হল, বলবিন্দরের পরিবারকে উপহার পাঠালেও তাঁর জন্য কিছু পাঠাননি তৃণমূলনেত্রী। তা ছাড়া বলবিন্দর এখনও জেলেই রয়েছেন। এখানে বলে রাখা ভাল, পুজোর সময় মন্ত্রিসভার সদস্য, শীর্ষ আমলা টলিউডের অভিনেতা, সাংবাদিক মায় বহু লোককেই উপহার দেন দিদি। ক্ষমতায় আসার আগে সেই তালিকা খুব লম্বা ছিল না। কিন্তু গত দশ বছরে তা ক্রমশই দীর্ঘ হয়েছে। হতে পারে শুক্রবার থেকেই উপহার দূত মাধ্যমে পৌঁছতে শুরু করেছে বিভিন্ন জনের কাছে। কেউ কেউ উপহার পেয়ে অতি উৎসাহে টুইটারে বা ফেসবুকে লিখে দিদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তার মধ্যে দুটি টুইট আজ নজর কেড়েছে। একটি মনজিন্দর সিরসার অন্যটি পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের স্ত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More