বুধবার, আগস্ট ২১

মোট ৫৮০ কোম্পানি, চতুর্থ দফায় সব বুথে থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী  

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধাপে ধাপে বাড়ানো শুরু হয়েছিল। চতুর্থ দফার ভোটের আগে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী আসছে রাজ্যে। বাংলার বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় ভি নায়েক জানিয়ে দিয়েছেন, মোট ৫৮০ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী রেখে ভোট হবে চতুর্থ দফার আট আসনে।

সোমবার ভোট গ্রহণ হবে বহরমপুর, কৃষ্ণনগর, রাণাঘাট, বর্ধমান পূর্ব, বর্ধমান-দুর্গাপুর, আসানসোল, বীরভূম ও বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রে। বুধবারই কমিশন জানিয়েছিল অতি স্পর্শকাতর বীরভূম জেলার দুটি আসনেই ১০০ শতাংশ বুথে মোতায়েন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষ পর্যবেক্ষক জানিয়ে দিলেন, শুধু বীরভূম নয়। আটটি কেন্দ্রের সমস্ত বুথে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

যত দফা এগিয়েছে, তত কড়া হয়েছে কমিশন। তৃতীয় দফায় ৩২৪ কোম্পানি বাহিনী নিয়ে ভোট হয়েছিল। কিন্তু সব বুথে আধা সেনা দেওয়া যায়নি। ৯২ শতাংশ বুথ ছিল কেন্দ্রীয়বাহিনীর তত্ত্বাবধানে। অজয় নায়েকের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী তৃতীয় দফার থেকে চতুর্থ দফায় রাজ্যে বাড়ানো হচ্ছে  আরও ২৫৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।

ইতিমধ্যেই বাংলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাংলার বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় নায়েক। ১০-১৫ বছর আগের বিহারের আইন-শৃঙ্খলার সঙ্গে তুলনা করেছেন আজকের বাংলার। সেই নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ জানিয়েছে তৃণমূল। কমিশনে চিঠি দিয়ে অজয় নায়েকের অপসারণের দাবি করে বাংলার শাসক দল। কিন্তু কমিশন বুঝিয়ে দিল, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করাতে বদ্ধপরিকর তারা। এর মধ্যে আবার তৃতীয় দফার ভোটে মুর্শিদাবাদের ভগবান গোলায় টিয়ারুল শেখ নামের এক কংগ্রেসকর্মীর মৃত্যুও হয়েছে। সব মিলিয়ে কমিশনের কাছেও চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে পরবর্তী দফার ভোট।

প্রথম দফার ভোটের দিন থেকেই রাজ্যে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি জানিয়ে এসেছে বিরোধীরা। প্রতিটি বুথে আধাসেনা মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু তারপরেও প্রথম তিন দফার ভোটে বেশ কিছু বুথে রাজ্য পুলিশ দিয়ে ভোট পরিচালনা করাতে হয়েছে। বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, যেখানে রাজ্য পুলিশ বুথ সামলেছে, সেখানেই গণ্ডগোল করেছে তৃণমূল। ভোট কর্মীদের দাবি তো ছিলই, কেন্দ্রীয়বাহিনী না থাকলে ভট করতে না দেওয়ার যে মেজাজ জনতার মধ্যে সংক্রামিত হচ্ছিল তা অতীতে কখনও দেখা যায়নি। ‘নো সেন্ট্রাল ফোর্স, নো ভোট’ কার্যত ট্রেন্ডিং হতে শুরু করেছিল। চতুর্থ দফার আগে তাই আরও কশে কোমর বেঁধে নিল কমিশন।

Comments are closed.