বুধবার, অক্টোবর ১৬

শোভনকে ফোন স্পিকারের, আসছেন না কেন?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন দশেক আগেই সহকর্মী শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ফের ‘সক্রিয়’ করতে তাঁর গোলপার্কের আবাসনে গিয়েছিলেন তৃণমূলের মহাসচিব তথা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু তাতে চিড়ে ভেজেনি। এ বার শোভনবাবুকে ফোন করলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানতে চাইলেন, “আপনি আসছেন না কেন?”শোভন চট্টোপাধ্যায় ফিশারি বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান।

বিধানসভা সূত্রে খবর, স্পিকার ফোন করে তাঁকে বলেন, দীর্ঘদিন ওই কমিটির বৈঠক হচ্ছে না। স্পিকারকে অবশ্য প্রাক্তন কলকাতার মেয়র কী বলেছেন তা স্পষ্ট নয়। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে বেহালা পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক শোভনবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে পরে এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।

মন্ত্রিসভা এবং মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই শোভন চট্টোপাধ্যায় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে। মাঝে শোনা গিয়েছিল, তিনি বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু সেই হাওয়ার কথা হাওয়াতেই মিলিয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে আবার বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যে সংবাদ শিরোনামে আসেন শোভনবাবু। বৈশাখী দেবী মিলি আল আমিন কলেজের অধ্যাপিকা এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা। কিন্তু দু’দিন আগেই তিনি সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে অভিযোগ করেছেন, তাঁর গায়ে ধর্মীয় ছাপ দিয়ে তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছিলেন বৈশাখীদেবী। সে সব কথা বলতে বলতে কেঁদেও ফেলেন। সাংবাদিক বৈঠকেই ঘোষণা করেন তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেবেন। শুক্রবার মার্সিডিজ গাড়ি চেপে শিক্ষামন্ত্রীর নাকতলার বাড়িতে গিয়ে সেই চিঠি দিয়ে আসেন বৈশাখী। যদিও পার্থবাবু তা গ্রহণ করেননি। পরামর্শ দিয়েছেন, মাথা ঠান্ডা রাখার। ওই দিনই প্রশ্ন তুলে শোভনবাবু বলেছিলেন, আমি তৃণমূলে না ফেরাতেই কি ওকে হেনস্থা করা হচ্ছে?

পর্যবেক্ষকদের মতে, শোভনকে দলে ফেরাতে তৃণমূল যে কতটা তৎপর, তা স্পষ্ট করে দিল এ দিনের স্পিকারের ফোন। প্রথমে পার্থবাবুকে দিয়ে চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তা সফল না হওয়ায় এ বার স্পিকার ফোন করলেন তাঁকে। তাঁদের মতে, ফিশারি স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক আসলে একটা ছুতো মাত্র, আসল উদ্দেশ্য শোভনকে রাজনীতিতে সক্রিয় করা। এখন দেখার, আদৌ বিধানসভায় আসেন কিনা শোভন। কবে হয় ফিশারি স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক।

Comments are closed.