বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২
TheWall
TheWall

শোভন-বৈশাখী অন্তরালে? অমিত শাহের সভায় নেই, হলটা কী?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার নেতাজি ইনডোরে বিজেপি সভাপতি তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভায় অনেক কিছুর মধ্যেও নজর কেড়েছিল তাঁদের অনুপস্থিতি। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় যাননি জনজাগরণ সভায়। কিন্তু কেন যাননি তাঁরা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বৈশাখীদেবীকে ফোন করতেই জানা গেল এক অন্য ঘটনা।

দেড় মাস হল দু’জনে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে তাঁদের বনিবনা নিয়েও নানান প্রশ্ন উঠেছে। রায়দিঘির তৃণমূল বিধায়ক দেবশ্রী রায়ের বিজেপি-তে যোগদান নিয়ে মুরলীধর সেন লেনের নেতাদের সঙ্গে সামনাসামনি সংঘাত হয়েছে শোভন-বৈশাখীর। তারপর রাজ্য দফতরে শোভনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের কার্ডে বৈশাখীর নাম না থাকা নিয়েও মনোমালিন্য চরম আকার নেয়। ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে শোভন-বৈশাখীকে ‘ডাল-ভাত’ বলে সম্বোধন করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

কিন্তু অমিত শাহের সভায় গেলেন না কেন? আমন্ত্রণ ছিল না?

বৈশাখীদেবী জানিয়েছেন, অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গেই রাজ্য বিজেপি-র তরফে তাঁদের (পড়ুন তাঁকে এবং শোভনকে) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। যাবেন বলে সব ঠিকও ছিল। কিন্তু মিল্লি আল আমিন কলেজের টিচার্স ইনচার্জের ঘরে মঙ্গলবার তাঁকে নাকি এমন হেনস্থার শিকার হতে হয়, তিনি যেতেই পারেননি। থানা, পুলিশ, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ফোন—এ সব করতে করতেই বিকেল গড়িয়ে যায়।

কী হয়েছিল এমন যে, থানা পুলিশে ছুটতে হল?

বৈশাখীদেবী আগেই পদত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ি গিয়ে তা দিয়েও এসেছিলেন। কিন্তু পার্থবাবু তাঁকে মাথা ঠান্ডা করার পরামর্শ দিয়ে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেননি। শোভন-বান্ধবীর অভিযোগ, “ছুটি শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে গতকাল কলেজে গিয়েছিলাম। কিন্তু কলেজের এক অধ্যাপিকা আমার ঘরে এসে দুম করে ঢুকে পড়েন। আমি শুধু তাঁকে বলার মধ্যে বলি, টিআইসি-র ঘরে ঢুকতে গেলে অনুমতি নিতে হয়। এটা সৌজন্য।” এরপরই নাকি ওই অধ্যাপিকা তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ শুরু করেন। বৈশাখীদেবীর আরও অভিযোগ, ছাত্রীদের সামনেই নাকি তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন সাবিনা। তিনি বলেছেন, “এমন অপমানিত হই যে লজ্জায় আমি ঘেমে যাচ্ছিলাম। থরথর করে কাঁপছিলাম।” এরপর বেনিয়াপুকুর থানায় ওই অধ্যাপিকার বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপিকা। গোটা ঘটনার কথা ফোনে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী তথা তৃণমূলের মহাসচিবকেও।

এই অধ্যাপিকার সঙ্গে বৈশাখীর সংঘাত বহু পুরনো বলেই অনেকে বলেন। কিন্তু তা যে এই জায়গায় যাবে, তা বোধহয় অনেকেই আন্দাজ করেননি। কলেজের এক শিক্ষাকর্মীর কথায়, “কাল যা হয়েছে, তা এক কথায় চুলোচুলি।” বৈশাখীদেবী জানিয়েছেন, ওই ঘটনার জন্য দেরি হয়ে যাওয়াতেই তিনি অমিত শাহের সভায় যেতে পারেননি।

কিন্তু বৈশাখী নয় কলেজের ঝামেলায় আটকে গিয়েছিলেন, শোভনবাবু গেলেন না কেন?

প্রাক্তন মেয়র তথা বেহালা পূর্বের বিধায়কের বান্ধবী বলেন, “শোভনদা একটু কোর্টের কাজকর্ম করছিলেন। তাতেই আটকে গিয়েছিলেন। তাই যাননি।”

অনেকে বলছেন, ওঁরা দু’জনে আসেননি সেটা একরকম। কিন্তু একজন এলে অন্যজন না এলে ওঁদের সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠে যেত। সেই ঝুঁকি নিতে চাননি বলেই হয়তো শোভনবাবুও নেতাজি ইনডোরের দিকে পা বাড়াননি।

Comments are closed.