বিজেপি হাত ধরে না তুললে, মমতাদির তৃণমূল তলিয়ে যেত: শোভন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় তৃণমূলের প্রধান প্রতিপক্ষ এখন বিজেপি। আবার সারা দেশে যাঁরা এখন নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহদের বিরুদ্ধে গলার সুর চড়িয়ে কথা বলেন, তাঁদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই মমতারই স্নেহের কানন তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিন বিজেপি রাজ্য দফতরে পা রেখে জানিয়ে দিলেন, “বিজেপি যদি দিদিকে সাহায্য না করত, অটলবিহারী বাজপেয়ী লালকৃষ্ণ আডবাণীরা যদি মমতাদির হাত ধরে না তুলতেন, তাহলে তিনি তৃণমূল করতেই পারতেন না।”

    শোভনের গেরুয়া শিবিরে যোগদানের পর্ব সারা হয়ে গিয়েছিল স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন। মঙ্গলবার বিকেলে রাজ্য বিজেপি-র পক্ষ থেকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। সে সব পালা মেটার পর রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ দু’পাশে শোভন-বৈশাখীকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানেই শোভনবাবু বলেন, “৩৪ বছর আলিমুদ্দিন স্ট্রিট পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে অনেক অত্যাচার করেছে। কিন্তু এই আট বছরে যা হয়েছে, সিপিএমের আমলেও এই রকম সংগঠিত সন্ত্রাস দেখিনি।”

    এখানেই থামেননি শোভনবাবু। নতুন দলের নেতা হিসেবে দিলীপ ঘোষকে মেনে নিয়েছেন, এবং দিলীপবাবু যেমন বলবেন তেমনই তিনি চলবেন, তা-ও এ দিন স্পষ্ট করে দেন বেহালা পূর্বের বিধায়ক। বলেন, “নত মস্তকে বলছি, জীবন চলে গেলে যাবে। দিলীপ ঘোষ যে ভাবে বলবেন, সে ভাবেই চলব। এখন অর্জুনের পাখির চোখ দেখার মতো লক্ষ্য একটাই। বাংলাকে আবার মুক্ত করতে হবে।”

    আরও পড়ুন: বিস্ফোরক শোভন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার অপমান করছেন, বিশ্বাসটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল

    সোমবারই একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে শোভন বলেছিলেন, যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রথমবার ডায়মন্ড হারবার থেকে জেতাতে তিনি দিন রাত এক করে, মুখে রক্ত তুলে খেটেছিলেন। এ দিন অবশ্য ডায়মন্ড হারবারের নাম করেননি। তবে ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “এই নির্বাচনেও সব জায়গায় মানুষ ঠিক ভাবে ভোট দিতে পারেনি। একেকটা বুথের ফলাফলেই তা স্পষ্ট। যদি সব জায়গায় ঠিক মতো মানুষ ভোট দিতে পারত, তাহলে নবান্নের গদি বিলীন হয়ে যেত।”

    দল এবং সরকারের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী যে কাউকেই বিশ্বাস করেন না, এ কথা আগেই বলেছিলেন শোভন। এ দিন প্রশান্ত কিশোর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর কলকাতার প্রাক্তন এক নম্বর নাগরিক বলেন, “ঠিকাদার নিয়ে এসে দল বাঁচানোর এই ছবিই বলে দিচ্ছে, দলটার জনসমর্থন কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে!”

    একটা সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে দু’চার জনের সঙ্গে দলের সবটা নিয়ে আলোচনা করতেন, তার মধ্যে শোভন ছিলেন অন্যতম। দিদি পুজোয় কাকে কী উপহার দেবেন, বাজার ঘুরে কিনে আনতেন শোভন। কেকেআর আইপিএল জেতার পর পরের দিন সকালেই ইডেনের সংবর্ধনায় খেলোয়াড়দের গলায় সোনার চেন পরিয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাত জেগে স্যাঁকরার দোকানে বসে ছিলেন শোভন। সেই স্নেহের কাননই এখন দিদির প্রতিপক্ষ। তাঁর পাখির চোখ এখন, দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে এগিয়ে গিয়ে বাংলাকে মুক্ত করা। তৃণমূল মুক্ত বাংলা গড়া।

    তৃণমূল নেতারা অবশ্য বলছেন, শোভন এমন কথা আরও বলুন। বেশি বেশি করে বলুন। বৈশাখীকে পাশে নিয়ে বলুন। যত এরকম বলবেন, বিশ্বাসঘাতকের মুখ কেমন দেখতে হয় বাংলার মানুষ চিনে যাবে। লোকে বুঝতে পারবে, দুধ কলা দিয়ে দিদি কাদের বড় করেছেন। এঁরা দল থেকে বেরিয়ে যাওয়াই মঙ্গল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More