বরফ গলল না, স্ট্যান্ডিং কমিটি থেকে পদত্যাগ করলেন শোভন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দূরত্ব বেড়েইছিল। মঙ্গলবারের বার বেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দূরত্ব বোধহয় আরও কয়েক যোজন বেড়ে গেল।

    মন্ত্রী এবং মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বেশহ কয়েক মাস হয়ে গেল। এ বার বিধানসভার ফিশারি বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটি থেকেও ইস্তফা দিয়ে দিলেন শোভন। কয়েক দিন আগে বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করেছিলেন শোভনকে। বলেছিলেন, ফিশারি স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক হয় না কয়ে মাস হয়ে গেল। অনেকেই ভেবেছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের চেষ্টার পর তৃণমূল-শোভন দূরত্ব কমাতে আসরে নেমেছেন স্পিকার। কিন্তু তাতেও বরফ গলল না।

    মঙ্গলবার বিকেলে ফ্যাক্স করে বিধানসভায় নিজের ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেন শোভন। এ বযাপারে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “নীতি নৈতিকতার প্রশ্নে ওঁর অনেক আগেই ইস্তফা দেওয়া উচিত ছিল।” এ দিন শোভনবাবুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু একাধিকবার ফোন বেজে গেলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে এই প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, স্ট্যান্ডিং কমিটির সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু তবু স্পিকার চেষ্টা করেছিলেন তাঁকে সক্রিয় করতে। কিন্তু ইস্তফা দিয়ে শোভন বুঝিয়ে দিলেন, তিনি আর কোনও সম্পর্কই রাখতে চান না।

    মন্ত্রিসভা এবং মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই শোভন চট্টোপাধ্যায় রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে। মাঝে শোনা গিয়েছিল, তিনি বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন। কিন্তু সেই হাওয়ার কথা হাওয়াতেই মিলিয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে আবার বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যে সংবাদ শিরোনামে আসেন শোভনবাবু। বৈশাখী দেবী মিলি আল আমিন কলেজের অধ্যাপিকা এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা। কিন্তু কয়েকদিন আগেই তিনি সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে অভিযোগ করেছেন, তাঁর গায়ে ধর্মীয় ছাপ দিয়ে তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছিলেন বৈশাখীদেবী। সে সব কথা বলতে বলতে কেঁদেও ফেলেন। সাংবাদিক বৈঠকেই ঘোষণা করেন তিনি চাকরি থেকে ইস্তফা দেবেন। তারপর ৯ অগস্ট মার্সিডিজ গাড়ি চেপে শিক্ষামন্ত্রীর নাকতলার বাড়িতে গিয়ে সেই চিঠি দিয়ে আসেন বৈশাখী। যদিও পার্থবাবু তা গ্রহণ করেননি। পরামর্শ দিয়েছেন, মাথা ঠান্ডা রাখার। ওই দিনই প্রশ্ন তুলে শোভনবাবু বলেছিলেন, আমি তৃণমূলে না ফেরাতেই কি ওকে হেনস্থা করা হচ্ছে?

    কিন্তু তারপর বিমানবাবুর ফোনে অনেকেই অন্য ইঙ্গিত খুঁজেছিলেন। কিন্তু শোভন বুঝিয়ে দিলেন তিনি অনড়। আগে একবার বলেছিলেন, “আমার সব যায় যাক, তবু বৈশাখীকে আমি ছাড়তে পারব না।” মন্ত্রিত্ব, মেয়রপদ যাওয়ার পর স্ট্যান্ডিং কমিটিও ছেড়ে দিলেন তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More