মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

Breaking: সৌমিত্র বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে পরেই অস্ত্র আইনে গ্রেফতার তাঁর আপ্তসহায়ক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল থেকে মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর ঘণ্টা দুয়েকও কাটেনি। এর মধ্যেই বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-এর আশঙ্কা সত্যি হয়ে গেল। বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো সৌমিত্র খাঁর আপ্তসহায়ক সুশান্ত দাঁ ওরফে গোপীকে। বুধবার দুপুরের পর তাঁকে কোর্টেও তোলা হয়।

মঙ্গলবার সন্ধে বেলা ফেসবুকে লাইভ করে এবং স্টেটাস পোস্ট করে বিষ্ণুপুরের তৃণমূল সাংসদ (তখনও তিনি তৃণমূলই ছিলেন) অভিযোগ করেছিলেন, বিষ্ণুপুরের এসডিপিও সুকোমল দাস তাঁকে খুন করার ষড়যন্ত্র করছেন। সেই সঙ্গে তাঁর এ-ও অভিযোগ ছিল, তাঁর আপ্তসহায়ক গোপীকে ‘গুম’ করার চেষ্টা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দুপুর থেকে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না গোপীর। রাতে দিল্লি থেকে ফেসবুকে বোমা ফাটান সৌমিত্র। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন বুধবার বাঁকুড়ায় ফিরে বুঝে নেবেন। কিন্তু এ দিন বাঁকুড়ায় না এসে চলে যান অমিত শাহদের হেড কোয়ার্টারে। যদিও রাত্রি বেলা গোপীর স্ত্রী টিয়া দাঁ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “গোপী বাড়িতে ফোন করেছিল। আমায় বলেছে এসডিপিও স্যারের অফিসে রয়েছে। রাতে ফিরবে না। কিন্তু কেন তা বলেনি।”

গতকাল রাতে আটক গোপীকে এ দিন গ্রেফতার করে কোর্টে তোলার সময় এসডিপিও সুকোমল দাস বলেন, “পুলিশ হেফাজতে থাকা কাদের খানের তথ্য অনুযায়ী ওকে অস্ত্র আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

এখন প্রশ্ন, এই গ্রেফতার কি নেতাহই কাকতালীয়?

দিল্লির বিজেপি সদর দফতরে দাঁড়িয়ে সৌমিত্র খাঁ বলেন, “বাংলায় পুলিশ রাজ চলছে।” একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যান মুকুল রায় ইদানীং অভিযোগ করেন, “বিরোধিতা করলেই পুলিশ এখন গাঁজা আর অস্ত্র আইনে কেস দিয়ে দেয়।” সৌমিত্রর আপ্তসহায়ক গ্রেফতারের পর সে কথাই আবার বলছে মুকুল শিবির।

এমনিতেই বেশ কয়েক মাস সৌমিত্রর কাজে খুশি ছিলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দলের কোর কমিটির বৈঠকে তো সৌমিত্রকে উদ্দেশ করে বলেন, “শুধু বালি খাদান আর অন্যের পার্টি অফিস দখল করে কদ্দিন চলবে?” অনেকেই মনে করেন এ বার আর টিকিট পেতেন না সৌমিত্র। তা ছাড়া তিনি মুকুল রায়ের লোক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। এ দিন মুকুলের সঙ্গে গিয়েই যোগ দেন বিজেপি-তে। চোদ্দর ভোটে মুকুলই টিকিট দিয়েছিলেন সৌমিত্রকে। পর্যবেক্ষকদের মতে, গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়ে গুরুদক্ষিণা দিলেন সৌমিত্র।

Shares

Comments are closed.