বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১
TheWall
TheWall

হোয়াটসঅ্যাপে আড়ি পাতা নিয়ে মোদী সরকারকে দুষলেন সনিয়া-মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইজরায়েলি সংস্থা এনএসও-র তৈরি স্পাইওয়্যার-এর মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারও এ কথা স্বীকার করে নিয়ে নোটিস পাঠিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপকে। কিন্তু এই ঘটনায় সরাসরি কেন্দ্রের উপরেই দায় চাপালেন অন্তর্বর্তী কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের অভিযোগ ফোন-হোয়াটসঅ্যাপে আড়ি পাতা হচ্ছে কেন্দ্রের নির্দেশেই।

শনিবার একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সামনে সনিয়া বলেন, “এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা যে ইজরায়েলি পেগাসাস সফটওয়্যার ব্যবহার করে মোদী সরকার সমাজকর্মী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে আড়ি পাতছে। গুরুত্বপুর্ণ তথ্য চুরি করা হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র বেআইনি নয় অসাংবিধানিকও বটে। এটা খুবই লজ্জার।”

অন্যদিকে এদিনই ছটপুজো উপলক্ষ্যে খিদিরপুর এলাকায় তক্তাঘাটে গিয়েছিলেন এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বক্তব্য রাখার পর তিনি যখন বেরিয়ে যাচ্ছেন তখন উপস্থিত সাংবাদিকরা তাঁকে সাম্প্রতিক হোয়াটসঅ্যাপের এই নজরদারির ব্যাপারে প্রশ্ন করেন। তার উত্তরে মমতা বলেন, “এটা খুবই চিন্তার বিষয়। আমার ফোন ট্যাপ করা হচ্ছে। আমি সেটা বুঝতেও পারছি। সব কিছুতেই নজরদারি চালানো হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। সরকারি কাজকর্ম করতে ব্যাঘাত ঘটছে।”

আরও পড়ুন মমতা সরকারও ফোন ট্যাপ করে, সরাসরি অভিযোগ কৈলাস বিজয়বর্গীয়র

তারপরেই এই বিষয়ে মোদী সরকারের উপর তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এটা ফ্যাক্ট যে ইজরায়েলের এনএসও সংস্থা ফোন ট্যাপ করার ওই সফটওয়্যার কেন্দ্রকে দিয়েছে। এর সঙ্গে দুটি রাজ্যের সরকারও যুক্ত আছে। আমি তাদের নাম বলব না। কিন্তু তারমধ্যে একটি রাজ্যে বিজেপি সরকার রয়েছে। এই ট্যাপ করার জন্য একটি বিশেষ গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই গাড়ির মধ্যে ওই সফটওয়্যার রয়েছে। গাড়ি যেখানে যাচ্ছে সেখানকার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে যে কারও ইচ্ছে ফোন ট্যাপ করা কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ থেকে তথ্য নিয়ে নিচ্ছে।”

শুধুমাত্র তাঁর নয়, রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, আমলা, আইএএস, আইপিএস অফিসার, সাংবাদিক এমনকি বিচারপতিদের ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপেও আড়ি পাতা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনায় তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি এই ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে। যদি কোনওভাবেই এই সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে আমরা আদালতে যাব। এই অবস্থা জরুরি অবস্থার থেকেও খারাপ। জরুরি অবস্থাতেও এসব হয়নি।”

অবশ্য ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ মমতার নতুন নয়। উনিশের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় অনেকবার তিনি অভিযোগ করেছিলেন তাঁর ফোনে আড়ি পাতা হয়। আর এ সবের পিছনে রয়েছে বিজেপি। এ বার হোয়াটসপঅ্যাপ কাণ্ডেও মোদী সরকারেই নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

হোয়াটসঅ্যাপে আড়ি পাতার এই ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে মোদী সরকার। সেই কথা আরও একবার স্পষ্ট করলেন সনিয়া। একই সুর শোনা গেল মমতার মুখেও।

পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯ – এ প্রকাশিত গল্প

Comments are closed.