বুধবার, মে ২২

সব্যসাচীর পর কে? ভোট ঘোষণা হতেই শুরু হয়ে যেতে পারে দলবদলের খেলা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধাননগরের মেয়র তথা রাজারহাটের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত যে মুকুল রায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন, বাংলা রাজনীতিতে তা এক প্রকার ‘ওপেন সিক্রেট’। কোনও রহস্য নেই। কিন্তু তৃণমূল ও বিজেপি দুই শিবিরেরই খবর, ভোট ঘোষণা হতেই উত্তর চব্বিশ পরগণা, কোচবিহার, বীরভূম সহ উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে শাসক দলের আরও কিছু উইকেট ফেলে দিতে পারে বিজেপি। বিশেষ করে সব্যসাচীর পর উত্তর চব্বিশ পরগণার শিল্পাঞ্চলের এক বাহুবলী তৃণমূল নেতাও যোগ দিতে পারেন গেরুয়া শিবিরে। 

সূত্রের মতে, রাজ্য ও জেলা স্তরে শাসক দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ রেষারেষি, অপ্রাপ্তি, বঞ্চনার ঘটনাকেই দল ভাঙানোর জন্য হাতিয়ার করে নিচ্ছে বিজেপি। এমনকী গেরুয়া শিবিরের এও দাবি, দলবদলের এই পর্বে চমকে যাওয়ার মতো ঘটনাও নাকি ঘটে যেতে পারে!

বাংলায় তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিরোধী দল ভাঙিয়ে আনার ব্যাপারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দক্ষিণহস্ত ছিলেন মুকুল রায়। কখনও বিধানসভা ভোটে, কখনও বা রাজ্যসভা নির্বাচনের সময় এ ব্যাপারে যাবতীয় গুটি সাজাতেন তিনিই। তা সে কংগ্রেসের বিধায়ককে তৃণমূলে আনা হোক বা কোনও বাম বিধায়ককে। এ বার, লোকসভা ভোটের আগে তৃণমূল ভাঙানোর ব্যাপারেও সেই নেপথ্য নায়ক মুকুল রায়ই। সূত্রের খবর, তৃণমূলের বেশ কিছু মাঝারি ও জেলাস্তরের নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন মুকুলবাবু। লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট যদি কাল সোমবারই ঘোষণা করে দেয় জাতীয় নির্বাচন কমিশন, তা হলে তার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই শুরু হয়ে যেতে পারে দলবদলের পালা। এ জন্য শনিবার রাতেই দিল্লি পৌঁছেছেন মুকুলবাবু।

প্রশ্ন উঠতে পারে, কেন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে? মুকুল রায় খোলাখুলিই অভিযোগ করছেন, তার আগে কেউ দলবদল করলেই তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করতে পারে তৃণমূল। ঠিক যেমন, বিষ্ণুপুরের তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খানের ক্ষেত্রে হয়েছে। বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার আগে পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা ছিল না। কিন্তু তৃণমূল ছাড়তেই জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়ে যায় সৌমিত্রর বিরুদ্ধে। বিজেপি-র বক্তব্য, ভোট ঘোষণার পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব চলে যাবে নির্বাচন কমিশনের হাতে। তখন পুলিশ প্রশাসনকে রাজনৈতিক ভাবে অপব্যবহার করা সম্ভব হবে না শাসক দলের পক্ষে।

সন্দেহ নেই এ ভাবে তৃণমূল ভাঙানোর চেষ্টা নিয়ে শাসক দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব যারপরনাই ক্ষিপ্ত। তৃণমূলের কোর কমিটির মঞ্চ থেকেই নাম না করে মুকুল রায়কে ‘গদ্দার’ বলে মন্তব্য করেছেন মমতা। সেই সঙ্গে এও বলেছেন, কেউ কেউ টাকার ব্যাগ নিয়ে তৃণমূলের নেতাদের ফোন করছেন বলে তাঁর কাছে খবর। তবে তার পাশাপাশি আবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আগামীকাল যখন বিজেপি থাকবে না তখন কে বাঁচাবে!

যদিও বাস্তব হল, মরণ-বাঁচনের সাত সতেরো হিসাব কষেই বেশ কিছু নেতা পা বাড়াতে চলেছেন বিজেপি-র দিকে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসলে রাজনীতিতে আদর্শ ও নৈতিকতার জায়গা ক্রমশই লঘুতর হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তৃণমূলেরও কিছু বলা হয়তো সাজে না। ২০১৬ সালে বাংলায় একা ২১১ টি আসন জেতার পরেও তৃণমূল বিরোধী দল ভাঙাতে ছাড়েনি। বহু পুরসভায় একটি আসন না জিতেও রাতারাতি পুরসভা দখল করে নিয়েছে শাসক দল। একই ভাবে দখল করেছে বিরোধীদের হাতে থাকা জেলা পরিষদও। সেই সঙ্গে কংগ্রেস, বাম শিবির থেকে বিধায়ক, সাংসদ ভাঙানো হয়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শ, নৈতিকতার বিষয়টি তখনও গুরুত্ব পায়নি, এ বারও না।

আরও পড়ুন

দীপা, আমি মুকুল বলছি’, ফোন অধীর, সিপিএমের খগেন মুর্মুকেও

Shares

Comments are closed.