মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

মেদিনীপুরে ‘ভারত ছাড়ো’র মঞ্চে তৃণমূলের হারানো জমি পুনরুদ্ধারের ডাক শুভেন্দুর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৯ অগস্ট থেকে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত ২২ দিন ধরে রাজ্যজুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ভারত ছাড়ো কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইমতো, শুক্রবার মেদিনীপুর শহরের কলেজিয়েট ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র তথা রাজ্যের পরিবেশ ও পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই জনসভা থেকেই হারানো জমি পুনরুদ্ধারের দাবি জানালেন শুভেন্দু।

শুক্রবার মেদিনীপুরে ভারত ছাড়ো কর্মসূচি উপলক্ষ্যে শুভেন্দুর এই জনসভায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখানে দাঁড়িয়ে দলীয় কর্মীদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “আমরা গণতন্ত্রের মধ্যে দিয়েই মানুষকে পাশে নিয়ে আমাদের হারানো জমি পুনরুদ্ধার করব।” রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন শুধু রাজনীতির ময়দানে সীমাবদ্ধ থাকে, সে কথাই এ দিন তোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “বাংলায় সব দল রাজনীতি করুক, কিন্তু কারও পার্টি অফিস ভেঙে, কারও মাথা ফাটিয়ে রাজনীতি চাই না।”

তবে বর্তমানে রাজ্যের এই অচলাবস্থার জন্য সরাসরি বিজেপি ও সিপিএম-কেই দায়ী করেছেন মমতার অত্যন্ত আস্থাভাজন এই নেতা। তিনি বলেন, “সিপিএম-এর হার্মাদ বাহিনী বিজেপির জল্লাদ হয়ে গ্রামে গ্রামে তাণ্ডব চালাচ্ছে। এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সব কর্মীদের একত্রিত হতে হবে।”

শুভেন্দুর আশা, ফের রাজ্যের মানুষের মধ্যে দলের প্রতি একই রকমের আস্থা ফিরে আসবে। তিনি তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সবাইকে একত্রিত হতে হবে। তবেই ২০১১ সালের মতো ২০২১ সালেও বিপুল জনসমর্থন নিয়েই ফের ক্ষমতায় ফিরবে তৃণমূল। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে কৃষকবিরোধী বলেও কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু।

অন্যদিকে শুক্রবারই ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্ব আদিবাসী দিবসে মূল বক্তা ছিলেন শুভেন্দু। এই অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আমি আদিবাসী বলি না। আমি তাঁদের মূলবাসী বলি। আদিবাসীদের ভাষা পশ্চিমবঙ্গে কোনও সরকার ভাষা স্বীকৃতি দেয়নি। পঠন-পাঠন, ভাষা সিলেবাস, ডিকশেনারি করেছে আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। আমাদের সরকার আসার পর  প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পঠন-পাঠন শুরু হয়েছে। ২০১১ সালের আগে আদিবাসী উন্নয়ন দফতর বলে কোনও দফতর ছিল না। কিন্তু আমাদের সরকার আসার পরে এই দফতরের স্বীকৃতি দিয়েছে। যেখানে প্রথম বছরে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, আজ সেখানে গত বাজেটে ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।”

শুভেন্দু আরও বলেন, “পাশেই ঝাড়খণ্ডে একটা সরকার রয়েছে। কোন দল চালাচ্ছে, তা আমি সরকারি মঞ্চে বলব না। সেখানে জমির অধিকার কেড়ে নিয়ে জমিদার ও পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশে আদিবাসীদের উপর বর্বরোচিত ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত একটাও আত্যচার, হত্যা হয়নি এই জঙ্গলমহলে। আগে আদিবাসীদের মাওবাদী তকমা দিয়ে অত্যাচার করা হয়েছে। আদিবাসী পড়ুয়াদের পরিচালনা করার দায়িত্ব সরকার রামকৃষ্ণ মিশনের হাতে তুলে দিয়েছিল। তাই একলব্য থেকে দু’টো রত্ন পেয়েছি। জয়েন্টে প্রথম হয়েছে। আইআইটিতে সুযোগ পেয়েছে। এই উন্নয়নকে আপনাদের চোখের মণির মতো রক্ষা করতে হবে। ঝাড়গ্রামে ৩৭ দিন বনধ হয়েছে। সন্ধ্যার পর কোনও বাস চলত না। দিনের পর দিন অচলাবস্থা ছিল। আজকে সেই জায়গায় ঝাড়গ্রামে শান্তি ফিরেছে। ঝাড়গ্রাম জেলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে। নতুন করে সেজে উঠেছে ঝাড়গ্রাম।”

এ দিনের অনুষ্ঠানেও উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এই দুই সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য জনমানসে কতটা প্রভাব ফেলে সেটাই দেখার।

Comments are closed.