শুক্রবার, আগস্ট ২৩

বালি খাদান থেকে টাকা তুললে দায় নেবে না দল, ওন্দায় হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: তৃণমূলে থেকে দূর্নীতি করলে তার দায় দল নেবে না বলে দলীয় কর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন রাজ্যের পরিবহণ ও সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার ওন্দা স্টেডিয়ামে জনসভা করেন শুভেন্দু। সেখানেই তিনি বলেন, “দু’জন নেতা দলের নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে অবৈধ বালি খাদানে যুক্ত হয়েছেন। মালের দায়িত্ব আরোহীর। দল তাদের কোন দায়িত্ব নেবে না। কারণ ওই টাকা তৃণমূল নেয় না।”

এ বার ভোটে গোটা জঙ্গলমহলে খারাপ ফলাফল হয়েছে তৃণমূলের। বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর—জেলার দুটি আসনই গিয়েছে গেরুয়া শিবিরের দখলে। এই জেলায় যে বেআইনি বালি খাদানে শাসক নেতারা জড়িত তা জানেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও। একাধিক প্রশাসনিক বৈঠকে তা নিয়ে কড়া ব্যবস্থার কথা বলেছিলেন। কিন্তু পর্যবেক্ষকদের মতে, কাঁচা পয়সার নেশায়, বদলাননি স্থানীয় নেতারা। শুভেন্দু এ দিনের সভায় জানিয়ে দেন, তৃণমূলে থেকে এ সব করা যাবে না।

সিপিএম নেতা অমিয় পাত্র ও মনোরঞ্জন পাত্রের নাম করে তিনি বলেন, “২০১১ সালের আগে এদের নেতৃত্বে কিছু লোক জেলার বিভিন্ন অংশে ধারাবাহিক অত্যাচার চালিয়েছে। তারাই এখন লাল জামা ছেড়ে গেরুয়া জামা পরে অশান্তি সৃষ্টি করছে।” আর এসব থামাতে তিনি যে ‘স্পেশালিষ্ট’ তাও খোলাখুলি জানিয়ে দেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।

বিজেপি-র জয় নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। বলেন, “১৮টি আসন জিতে দু’টো ‘হাফ প্যান্ট’ মন্ত্রী দিয়েছে দিল্লি। এদের কারও পূর্ণমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা নেই! বাঁকুড়ার দুই বিজেপি সাংসদ জেলায় নতুন ট্রেন আনার ক্ষমতা তো নেই, একটা বগিও জুড়তে পারেননি।”

সম্প্রতি ওন্দা বিধানসভার অন্তর্গত নাকাইজুরি এবং কাটাবাড়ি পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যরা বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন। বিজেপিতে চলে যাওয়া সেই সদস্যরা আজ ফের আবার জেলার পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেস দলে ফিরলেন। বিজেপির হাতে গুরুতর আক্রান্ত রমেশ রুইদাস ও তপন ঘোষকে ১ লক্ষ করে টাকা তাঁদের দেওয়ার জন্য মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরার হাতে হাতে তুলে দেন শুভেন্দু।

Comments are closed.