বুধবার, জুন ২৬

দাড়িভিটের আস্থা ফিরিয়ে সভা করলেন শুভেন্দু

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা সময় ছিল যখন দাড়িভিট স্কুলের ঘটনাকে সামনে রেখে ইসলামপুরে শুভেন্দু অধিকারীদের ঢুকতে বাধা দিয়েছিল বিজেপি। রবিবার সেই দাড়িভিটেই বিশাল সভা করলেন তৃণমূল নেতা এবং পরিবেশ ও পরিবহণ মন্ত্রী।

দাড়িভিট স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষা দফতরের একটা ব্যর্থতা ছিলই। কিন্তু সেটাকে অস্ত্র করে স্থানীয়ভাবে বিজেপি রাজনীতিতে নেমে পড়ে। ফলে তৃণমূলের কাছে ইসলামপুরের জমি ধরে রাখাটা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সেই অবস্থায় ধীরে ধীরে দাড়িভিটের মানুষের আস্থা অর্জন করে রবিবার সেখানে সভা করেন শুভেন্দু।

আরও পড়ুন এ কী বললেন দিলীপ ঘোষ! ‘মমতাই হতে পারেন প্রথম বাঙালি প্রধানমন্ত্রী’

আগে থেকেই এই সভার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। ঘোষণার পর থেকে সভা নিয়ে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীদের একাংশ। কিন্তু তাতে থেমে থাকেনি তৃণমূল। স্কুলের পাশে না করে অবশ্য স্কুল থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে সভা করে তারা। সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই স্কুলের পাশে কোনও রাজনৈতিক সভা করতে চাননি তাঁরা।

দাড়িভিট কাণ্ডে নিহত দুই ছাত্রের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে পরিবেশ ও পরিবহণ মন্ত্রী বলেন, ঘটনার পরেই রাজ্য সরকারের তরফে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করা হয়েছিল। ক্ষতিপূরণের কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় ক্ষতিপূরণ নিতে অস্বীকার করেন নিহত দুই ছাত্রের পরিবার। পরে আবার তাঁরাই হাইকোর্টে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এ দিন শুভেন্দু বলেন, রাজ্য সরকার তো ইতিমধ্যেই সিআইডি’র হাতে তদন্তভার তুলে দিয়েছেন। তাহলে আবার সিবিআই তদন্তের কী আছে। এই ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে বিজেপি ও এবিভিপি যুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, বিজেপি’র প্রত্যক্ষ মদতেই এলাকায় অশান্তি হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তিন শিক্ষকের নিয়োগ নিয়ে গণ্ডগোলের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের দাড়িভিট স্কুল চত্বরে। গোলমাল চলাকালীন দুই ছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারপরেই প্রশাসনের নির্দেশে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

৫০ দিন বন্ধ থাকার পর নভেম্বর মাসে ইসলামপুরের এসডিপিও’র তত্ত্বাবধানে খোলে দাড়িভিট স্কুল। কিন্তু তারপরে ফের স্কুলের মূল গেটে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। অশান্তি, অনিশ্চয়তা জারি থাকে। মৃত ছাত্রের পরিবার ও গ্রামবাসীদের একটা বড় অংশ এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানাতে থাকেন। এই নিয়ে বুধবার শান্তি বিশ্বাস সহ ৫৪ জন অভিভাবক কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন।

এই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি শেখর ববি শরাফ দাড়িভিট স্কুলের প্রশাসক অর্থাৎ সেখানকার এসডিপিওকে নির্দেশ দেন, জেলাশাসক ও আইসি ইসলামপুরের সঙ্গে আলোচনা করে স্কুলে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে। সেইসঙ্গে পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়, স্কুল খোলার পরে যাতে কোনও রকমের গণ্ডগোল না হয়, তার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ পিকেট বসাতে হবে সেখানে। স্কুল চত্বর থেকে দুষ্কৃতীদের পোস্টার অবিলম্বে মুছে ফেলতে হবে।

তারপরে এ দিন দাড়িভিটে সভা করলেন শুভেন্দু। ইসলামপুরে দাঁড়িয়ে ব্রিগেডে অংশগ্রহণের ডাক দিলেন তিনি।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন

Comments are closed.