শনিবার, জানুয়ারি ২৫
TheWall
TheWall

তৃণমূলের ভয়ে কাঁপছে তৃণমূল, ব্লক নেতাদের নিরাপত্তারক্ষী! নারায়ণগড়ে নারদ-নারদ

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দেবব্রত সরকার ও শোভন চক্রবর্তী 

একসময় পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়গড় থেকেই জিতে মন্ত্রী হতেন এক সূর্য। কিন্তু এখন সেই ‘বাম’ও নেই, সেই অযোধ্যাও নেই। নিন্দুকরা বলেন তিনি এখন প্রায় অস্তাচলে। কিন্তু নারায়ণগড়ে এখন অন্য সূর্য। আর সেই সূর্যের তেজ এমনই যে, তাঁকে এবং তাঁর বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর নেতাকে প্রশাসন থেকে দিতে হচ্ছে সিকিউরিটি!

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দেড়মাস ধরে নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হচ্ছে নারায়ণগড়ের তৃণমূল নেতা সূর্য অট্ট এবং ব্লক সভাপতি মিহির চন্দকে । এঁদের সম্পর্ক বোঝাতে গিয়ে শাসক দলের কর্মীরা বলেন, ‘সূর্য যদি সাপ হয় মিহির তবে নেউল।’ চলতি বছরের গোড়ার দিকে মেদিনীপুর পুলিশ লাইনে জেলার প্রশাসনিক বৈঠক করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেছিলেন, ‘সূর্য, মিহির- তোমরা একসঙ্গে কাজ করো!” সেই বৈঠকে নেত্রীর সামনে ‘হ্যাঁ দিদি’ বলে ঘাড় নাড়লেও, নেত্রী জেলা ছাড়ার পরের দিন থেকেই দুই নেতা ফিরে যান নিজেদের ফর্মে। যে জেলা একটা সময় ছিল লাল ঝাণ্ডার দুর্ভেদ্য দুর্গ, সেখানে এখন ঘাসফুলের রমরমা। বিরোধী নেই বললেই চলে। আর সেখানেই কি না নিজেদের ভয়ে শাসক দলের ব্লক নেতাদের ঘুরতে হচ্ছে পিছন পিছন নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে।

তৃণমূলে এখন ফিক্সড মেনু, শুক্রবারও ভাত আর জোড়া ডিম

নারায়ণগড় ব্লকের মাঝখান দিয়েই বয়ে গিয়েছে কেলেঘাই নদী। অনেকে বলেন, নদীর একপার সূর্য অট্টর আর অন্য পার মিহির চন্দের। দীর্ঘদিন ধরেই এই দুই নেতার লড়াই। তা জানেন স্বয়ং মমতাও। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তো বেলদা থানার ভিতরেই অ্যাকশন শুরু হয়ে গিয়েছিল দুই নেতার। একটি ঘটনায় পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থানায় গিয়েছিলেন দুই নেতা। থানায় সূর্য উদয়ের কিছুটা আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন মিহির বাহিনী। থানার মধ্যেই মিহির চন্দকে একের পর এক লাথি মারার অভিযোগ ওঠে সূর্যর বিরুদ্ধে। বেলদা থানা থেকে মিহিরকে নিয়ে যেতে হয় হাসপাতালের বেডে। তারপরও থামেনি। গত অগস্টে মকরামপুরে দলীয় কার্য্যালয় উড়ে গিয়েছিল বিস্ফোরণে। মৃত্যু হয়েছিল চার তৃণমূল কর্মীর। প্রশাসনের আধিকারিকদের মতে, যে কোনও দিন যে কোনও ঘটনা ঘটতে পারে। তাই এই নিরাপত্তারক্ষীর বন্দোবস্ত।

সিকিউরিটি পাওয়া নিয়ে সূর্য অট্ট বলেন, “প্রশাসন মনে করেছে তাই দিয়েছে।” কিন্তু দাদার সিকিউরিটি পাওয়া নিয়ে বিশেষ খুশি নন অট্ট কোম্পানি। তাঁর এক ঘনিষ্ঠ অনুগামীর কথায়, “এতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই হলো বেশি। দাদা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে কথা বলছে সব খবর দলের উঁচু নেতাদের কাছে চলে যাবে।” কিন্তু কেন এমন আতঙ্ক? পর্যবেক্ষকদের মতে, মুকুল রায় যখন ছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড, তখন সূর্য ছিলেন মুকুলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। অনেকে মনে করছেন, মুকুলবাবুর নতুন দল বিজেপি-র দিকে পা বাড়িয়ে রয়েছেন তিনি। যে কোনও দিন ডাইভ দিলেন বলে! হতে পারে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিষয়টি আন্দাজ করেই সূর্যর গতিবিধিতে নজরদারির জন্য লোক লাগিয়ে দিয়েছে। যার মলাটটা সিকিউরিটি!

এক্সক্লুসিভ: দক্ষিণেশ্বরের পর এ বার স্কাইওয়াক হবে কালীঘাটেও

বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা মিহির চন্দ অবশ্য প্রকাশ্যেই বলছেন, “শনি ঠাকুরকে কেউ এমনি পুজো করে না। ভয়ে পুজো করে। ওঁর (সূর্য) ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। বোমা, বন্দুক, অস্ত্রের ভয়েই লোক যাচ্ছে।” এর মধ্যে শাসক দলের অনেক নেতা আবার মিহিরবাবুর সঙ্গে বিজেপি যোগ নিয়েও সন্দেহ করতে ছাড়ছেন না। তৃণমূলের স্থানীয় এক নেতার কথায়, “মিহির যখন সূর্যর লাথি খেয়ে হাসপাতালে ছিল, তখন ওঁর সঙ্গে ফুলের বোকে নিয়ে হাসপাতালে দেখা করতে গিয়েছিলেন বিজেপি-র জেলা সভাপতি সমিত দাস!”

গোটা নারায়ণগড়ে তৃণমূলের ভয়ে কাঁপছে তৃণমূল। আর মাঝে মাঝে অদৃশ্য জুজু হয়ে হানা দিচ্ছে বিজেপি!

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Share.

Comments are closed.