শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

বুলবুল সতর্কতায় সোমবারও স্কুল বন্ধ রাজ্যের সাত জেলায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধেয়ে আসছে বুলবুল। শনিবার সন্ধ্যাতেই আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। দুর্যোগ এড়াতে সোমবারও রাজ্যের সাত জেলায় সমস্ত সরকারি স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হবে কিনা পরবর্তী পরিস্থিতির উপর নজর রেখে তা ঠিক করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

শনিবার ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা জানার পরেই স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। শুক্রবারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া ও কলকাতায় শনিবার সব প্রাথমিক স্কুল ছুটি থাকবে। তবে প্রথমে প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ ছুটি ঘোষণার কথা জানালেও পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে এই সাত জেলায় বন্ধ থাকবে সমস্ত সরকারি স্কুল। প্রাথমিক ভাবে শনিবার মধ্যরাতে বুলবুল আছড়ে পড়ার কথা ছিল সাগরদ্বীপে। তবে পরবর্তী সময় জানা যায় সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১১টার মধ্যেই আছড়ে পড়তে পারে বুলবুল। এরপরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে সোমবারও এই সাত জেলায় বন্ধ রাখা হবে সব স্কুল।

১৩৫ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। সাগরদ্বীপ থেকে আর মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে এই ঘূর্ণিঝড়। তবে প্রবল শক্তি নিয়ে ধেয়ে আসলেও আবহবিদদের অনুমান আছড়ে পড়ার আগে গতিবেগ কিছুটা কমবে। অনুমান, সেইসময় বুলবুলের গতি থাকবে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে উপকূলের জেলাগুলোতে। তাই সমস্ত উপকূলবর্তী এলাকায় চলছে কড়া নজরদারি। দুর্যোগ এড়াতে তৈরি নৌবাহিনীও। বঙ্গোপসাগরে মোতায়েন রয়েছে নৌসেনার এয়ার ক্রাফট।

ইতিমধ্যেই এক লক্ষ তেতাল্লিশ হাজার মানুষকে উপকূলবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে নিরাপদ স্থানে। এদের রাখা হয়েছে বিভিন্ন রিলিফ সেন্টার এবং স্কুলে। রেলের তরফে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। নবান্নের কন্ট্রোল রুমে বসে নিজে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, মোট ২৩৮টা রিলিফ ক‍্যাম্প, ১৪৫টা লঙ্গরখানা খোলা হয়েছে এই জেলাগুলিতে। ৬টা এসডিআর‌এফ, ১০টা এনডিআর‌এফ টিম কাজ করছে। এছাড়াও সিভিল ডিফেন্সের ১৩৩৫ জন কাজ করছেন। সজাগ রয়েছেন জেলা প্রশাসনের সব আধিকারিকরাও।

Comments are closed.