ফণীর জন্য আট জেলায় স্কুল বন্ধ, রাতের নির্দেশিকায় স্পষ্ট করল নবান্ন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার আছড়ে পড়ার কথা ঘূর্ণিঝড় ফণীর। বৃহস্পতিবার দুপুরে নবান্নের জারি করা স্কুল ছুটির নির্দেশিকা নিয়ে তৈরি হয় ধোঁয়াশা। ক্লাস সাসপেন্ডেড লেখা থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। অবশেষে সন্ধে বেলা সরকারি নির্দেশিকা জারি করে নবান্ন জানাল শুক্র এবং শনিবার দক্ষিণবঙ্গের আট জেলায় সমস্ত সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল বন্ধ থাকবে। সেগুলি হল- দুই মেদিনীপুর, দুই চব্বিশ পরগনা, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, হাওড়া ও হুগলি।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে ফণীর জন্য ‘স্কুল ছুটি’র নবান্নের নির্দেশিকা নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল চূড়ান্ত ধোঁয়াশা। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল ক্লাস সাসপেন্ডেড। সোশ্যাল মিডিয়ায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সেই ক্ষোভ আঁচ করতে পেরে সন্ধ্যায় বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের পক্ষ থেকে বলা হয় দক্ষিণ বঙ্গের আট জেলায় স্কুল বন্ধ থাকবে। কিন্তু তাতেও ধোঁয়াশা কাটেনি। কারণ প্রেস বিবৃতি দেওয়া হলেও কোনও পুরোদস্তুর সরকারি অর্ডার (জিও) ছিল না। সন্ধেবেলা তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয় সরকারের তরফে।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকায় জানিয়ে দেওয়া হয় গরমের ছুটি এগিয়ে আনা হল। ৩ মে থেকে তা চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রায় ২ মাস চলবে গরমের ছুটি। গরমের ছুটির সঙ্গেই জুড়ে দেওয়া হয় ফণীর বিষয়টি।

    প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি মনীশ জৈনের স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশিকায় বলা হয়, এই সময়ে ‘ক্লাস সাসপেন্ডেড’ থাকবে। শিক্ষকদের একটা বড় অংশের কথায় ক্লাস সাসপেন্ডেড মানে ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে আসতে হবে না ঠিকই, কিন্তু শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মচারীদের স্কুলে হাজিরা দিতে হবে। এ নিয়ে শিক্ষক মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও কোনও সরকারি অর্ডার না থাকায় জটিলতা রয়েই গিয়েছে।

    প্রথম নির্দেশিকার পর হাওড়ার এক গার্লস স্কুলের শিক্ষিকা বলেন, “মেয়েরা স্কুলে আসবে না। আমরা কি গিয়ে ঝাঁট দেব?” শিক্ষকদের অনেকের বক্তব্য, গত কয়েক বছরে বহুবার এমন চমক দেওয়ার নির্দেশিকা জারি হয়েছে। কিন্তু স্পষ্ট করে কিছু না বলায় শিক্ষকদের স্কুলে গিয়ে বসে থাকতে হয়েছে। এক শিক্ষকের কথায়, “ ২০১৬ সালের ৯ এপ্রিল শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, ১১ এপ্রিল থেকে ছুটি। ৯ তারিখ ছিল শনিবার। কিন্তু সোমবার আমাদের স্কুলে গিয়ে বসে থাকতে হয়েছিল।” শিক্ষকমহলের অনেকের মতে, গরমের ছুটির সঙ্গে বিপর্যয়ের ব্যাপারটি জুড়ে দিয়ে সরকার জটিলতা তৈরি করেছে। সন্ধের নির্দেশিকায় অবশ্য এই দুদিনের কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।

    দুপুর এবং সন্ধের দুটি নির্দেশিকাতেই স্কুলের কথা বলা হলেও কলেজের কথা বলা নেই। শিক্ষামহলের প্রশ্ন, একটা বিপর্যয় তো বিপর্যয়ই। এর মধ্যে কলেজ বাদ স্কুল আছে, এ আবার কেমন কথা!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More