শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

সাগরে নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পাশে স্কুল পড়ুয়ারা, টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে দিল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইলিশের খোঁজে গভীর সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিলেন কাকদ্বীপের কয়েক হাজার মৎস্যজীবী। কিন্তু স্রোতের ধাক্কায় ডুবে যায় চারটি ট্রলার। বেশ কয়েকজনকে বাঁচানো সম্ভব হলেও তারপর থেকেই নিখোঁজ ২৩ মৎস্যজীবী। রোজগেরে সদস্যকে হারিয়ে অথই জলে পরিবার। এ বার সেই পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াল মথুরাপুর ১ নম্বর ব্লকের কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীরা। টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সঙ্গে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হলো একটি করে মেহগিনি গাছের চারাও।

শনিবার কাকদ্বীপের মৎস্য বন্দরে একটি অনুষ্ঠান করে নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের হাতে তুক্লে দেওয়া হয় এই সব সামগ্রী। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা, কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দন মাইতি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অধ্যাপিকা, কাকদ্বীপের দুটি মৎস্যজীবী সংগঠনের সম্পাদক বিজয় মাইতি ও সতীনাথ পাত্র সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

এই অনুষ্ঠানে নিখোঁজ মৎস্যজীবী পরিবারগুলির সদস্যদের হাতে অনুদান সামগ্রী তুলে দিয়ে সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা বলেন, “মৃত ও নিখোঁজ মৎস্যজীবী পরিবারগুলির পাশে সর্বদাই রাজ্য সরকার রয়েছে। কিন্তু নিজেদের টিফিনের খরচ বাঁচিয়ে, যেভাবে অসহায় মৎস্যজীবী পরিবারগুলির প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে স্কুলের পড়ুয়ারা, তা সত্যিই একটি দৃষ্টান্তমূলক ঘটনা।” তিনি আরও বলেন, “বেশ কিছুদিন আগে মৎস্যজীবী ইউনিয়ন ও ট্রলারের মালিক পক্ষ এই অসহায় পরিবারগুলির সদস্যদের হাতে ৩৫ হাজার টাকা করে তুলে দিয়েছিলেন। এ বার টিফিনের খরচ বাঁচিয়ে তাঁদের হাতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দিলেন স্কুলের পড়ুয়ারা।”

তবে কচিকাঁচাদের সাহায্য হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নিখোঁজ মৎস্যজীবী পরিবারগুলির সদস্যরা। মেহগনি গাছ হাতে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে প্রিয়শ্রী দাস বলেন, “স্কুল পড়ুয়াদের দেওয়া এই গাছই আমার স্বামীর স্মৃতি হয়ে থাকবে। গাছটির নামও রাখব স্বামীর নাম অনুসারে।” আর পঞ্চু রানী দাস, গীতা দাস ও সাঁতরা দাসরা বলেন, “জানি না আর কোনওদিন প্রিয়জনেরা ফিরবে কিনা। কিন্তু কচিকাঁচাদের দেওয়া এই সাহায্যই চিরকাল স্মৃতি হয়ে থাকবে আমাদের।”

Comments are closed.