সোমবার, এপ্রিল ২২

সিঙ্গুরে সন্তোষীমা, অনুপ্রেরণায় সেই মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের অনেকটা জুড়ে রয়েছে সিঙ্গুর আন্দোলন। এ কথা নিজেও বারবার বলেন তিনি। এ বার সেই সিঙ্গুরেই সন্তোষীমাতার পুজো হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায়।

১২ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত তিন দিন ধরে সন্তোষীমাতার পুজো উপলক্ষে অনুষ্ঠান করবে সিঙ্গুর কৃষিজীবী সন্তোষীমাতা পুজো কমিটি। ঐতিহাসিক বাজেমেলিয়ায় হবে মন্দির। এই কমিটির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন সিঙ্গুর আন্দোলনের অন্যতম নেতা তথা হরিপালের বিধায়ক বেচারাম মান্না। বেচাবাবু জানিয়েছেন, “আমরা দিদির কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে, তাঁর অনুপ্রেরণাতেই এই অনুষ্ঠান করছি।”

১২ মার্চ বেদিতে দেবীর বিগ্রহ স্থাপন ও সন্ধেবেলা অধিবাসের মাধ্যমে হবে অনুষ্ঠানের সূচনা। ১৩ মার্চ মন্দিরের চূড়ায় ধ্বজা উত্তোলনের পর ১৪ তারিখ হবে নরনারায়ণ সেবা। দ্বিতীয় দিন যাত্রাও পালাও অনুষ্ঠিত হবে মন্দির সংলগ্ন মাঠে। পালার নাম, ‘নীলাচলে মহাপ্রভু।’

এমনিতে রাজ্য সরকারের যে কোনও প্রকল্পেই ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায়’ লেখা থাকে। সে হাসপাতাল হোক বা বাসস্ট্যান্ড। এ বার সেই তালিকায় ঢুকে গেল সন্তোষীমার পুজোও। তবে এক্ষেত্রে কৌশল করেই ব্যাপারটা করা হয়েছে বলে মত অনেকের। কারণ অনুষ্ঠান সূচির কার্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী হসেবে সম্বোধন করা হয়নি। লেখা হয়েছে, ‘সিঙ্গুর কৃষিজমি রক্ষা আন্দোলনের নেত্রী মমতা ব্যানার্জীর অনুপ্রেরণায়’।

একটা সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতি শুক্রবার উপোস করে নিষ্ঠাভরে সন্তোষীমার পুজো করতেন। মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, ইদানীং উপোস না করলেও প্রতি শুক্রবার পুজো করেন দিদি। তাঁর পরিবারের অনেকেই সন্তোষীমার ভক্ত বলে জানা গিয়েছে।

সন্তোষী মা হলেন সন্তুষ্টির ও ইচ্ছাপূরণের দেবী। ১৯৭৫ সালে ‘জয় সন্তোষী মা’ নামে একটি স্বল্প বাজেটের হিন্দি ছবি দেশ জুড়ে এত জনপ্রিয়তা পায় যে, সর্বকালের সেরা ব্লগ বাস্টারগুলির মধ্যে জায়গা করে নেয়। সমাজতত্ত্ববিদরা বলেন,  ওই ছবির প্রভাবেই সেই সময় থেকেই বাংলাতেও এই দেবীর পুজোর প্রচলন অনেক বেড়ে যায়। ঘরে ঘরে মেয়েরা শুক্রবার করে দেবীর আরাধনা করা শুরু করেন।

Shares

Comments are closed.