মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

দোলাকে নিয়ে কালীঘাটে সব্যসাচী, দেখা মিলল না দিদির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার রাতে শোনা গিয়েছিল বিধাননগরের মেয়র সব্যসাচী দত্ত নাকি সল্টলেকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে কালীঘাটে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু সে ব্যাপারে নিশ্চিত কিছু না জানা গেলেও রবিবার সকালে দোলা সেনকে নিয়ে দিদির বাড়িতে গিয়েছিলেন সব্যাসাচী। কিন্তু দেখা করেননি মমতা। জানা গিয়েছে, রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেন এ দিন সকালে সব্যাসাচীর বাড়িতে আসেন। তারপর দু’জন মিলে যান দলনেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু ফিরে আসতে হয় দু’জনকেই।

শুক্রবার রাতে সব্যাসাচীর বাড়িতে মুকুল রায়ের লুচি, আলুরদম খেতে যাওয়া নিয়ে শাসক দলের ভিতর তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। মুখে স্যৌজন্য সাক্ষাৎ বললেও, ভোটের আগে এমন ডিনারকে মোটেই সৌজন্য হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। দেখছেন না স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর নির্দেশেই রবিবার বিকেলে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে বিধাননগরের কাউন্সিলরদের মিটিং ডাকা হয়েছে। সেখানে থাকবেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং ফিরহাদ হাকিম। অনেকের মতে, সব্যাসাচী ব্যাপারটা আঁচ করতে পেরেই এখন নিরীহ সাজার চেষ্টা করছেন। বোঝাতে চাইছেন মুকুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিছকই সৌজন্য। তাই দিদির বাড়িতে দরবার করতে গিয়েছিলেন বলে মত শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের।

মুকুল রায়ের সঙ্গে সব্যসাচীর দাদা-ভাইয়ের সম্পর্ক। দলের সঙ্গে মুকুলের দূরত্ব বাড়লেও সব্যসাচীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা কমেনি একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যানের। কিন্তু দলনেত্রী যাঁকে ‘গদ্দার’ বলে তোপ দাগছেন, দলেরই কোনও বিধায়ক যদি তাঁকে বাড়িতে ডেকে লুচি, আলুরদম খাওয়ান তাহলে তো সমস্যা হবেই! তাও আবার ভোটের আগে।

এ দিকে রবিবার বেলায় হাবড়ায় তৃণমূলের কর্মী সম্মেলনে যোগ দিয়ে বিকেলের বৈঠকে কী হতে চলেছে তা স্পষ্ট করে দেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি তথা রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। বালুবাবুকে জিজ্ঞেস করা হয়, “সব্যসাচী দত্তকে কি শোকজ করা হবে?” তাঁর উত্তর, “শোকজ করার জন্য মিটিং ডাকা হয়নি। তিনি মেয়র। কাউন্সিলরদের থেকে মতামত নেওয়া হবে। আমাদের ৩৯ জন কাউন্সিলরকে ডেকেছি। আমরা জানতে চাইব তাঁরা কী চাইছেন। মতামত কে।” এরপরঅই তিনি খোলসা করে জানিয়ে দেন, “মেয়র পদে সব্যসাচী দত্তকে রাখা হবে কি না সে বযাপারেই আলোচনা হবে।”

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সব্যাসাচীকে যে আর মেয়র রাখা হবে না তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিকই করে নিয়েছেন। তড়ইঘড়ি মিটিং ডাকা এবং দেখা না করা সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে নতুন মেয়র কে হবেন? সে ব্যাপারে অবশ্য জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক জানিয়েছেন, তা ঠিক করবে দল।

 

Shares

Comments are closed.