কাশ্মীরের মতো বাংলাকেও ঠান্ডা করে দিন, অমিত শাহকে সব্যসাচী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’দিন আগে মহালয়া উপলক্ষে ফেসবুকে যে পোস্ট করেছিলেন, সেই পোস্টারেও নিজের ছবির বুকপকেটে দেখা গিয়েছে জোড়াফুলের প্রতীক। বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র তথা রাজারহাট-নিউ টাউনের তৃণমূল বিধায়ক সেই সবস্যাচী দত্ত ‘আজ যাবেন, কাল যাবেন’ জল্পনা ঘুচিয়ে যোগ দিলেন বিজেপি-তে। মঙ্গলবার নেতাজি ইনডোরে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের মঞ্চে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন তিনি। ছোট্ট অথচ ‘জ্বালাময়ী’ বক্তৃতায় বললেন, অমিতজি বাংলাকে ঠান্ডা করুন।

    এ দিন সব্যসাচী বলেন, “অমিত শাহজিকে অনুরোধ, আপনি যেমন কাশ্মীরকে ঠান্ডা করে দিয়েছেন, তেমন বাংলাকেও করুন। মানুষ ওখানে এখন ভাল থাকবেন। আমরাও শান্তিতে থাকতে চাই।” এ দিন রাজ্য বিজেপি-র তরফে জনজাগরণ সভা ডাকা হয়েছিল। বিষয় ছিল জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ ও নাগরিকত্ব সংশোধন বিল সম্পর্কে দলীয় নেতা-কর্মীদের ধোঁয়াশা কাটিয়ে দেওয়া। সেই মঞ্চেই সব্যসাচীর যোগদান অন্যমাত্রা পেয়ে যায়। তাঁর বক্তৃতা শেষে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    বেশ কয়েক মাস ধরেই তৃণমূলের সঙ্গে সব্যসাচীর সম্পর্ক বৈরিতার পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। সেই মুকুল রায়কে ডেকে বাড়িতে লুচি-আলুরদম খাওয়ানো থেকে শুরু। এ দিন অমিত শাহের মঞ্চে সেই প্রসঙ্গও টেনে আনেন রাজারহাটের বিধায়ক। বলেন, “আমার বাড়িতে গিয়ে মুকুলদা আতিথেয়তা নিয়েছিলেন। মুকুলদা আমার পরিবারের সদস্য। সবাইকে বলি আমাদের সংস্কৃতি কখনও হারাব না। যাঁরা এই আতিথেয়তাকে ভয় পান, তাঁরা মানুষের পর্যায়ে পড়েন না। অন্য গ্রহ থেকে এসেছেন বলে মনে হয়।”

    পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার পর তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব যখন তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন, তারপর দোলের দিন একটি অনুষ্ঠানে তৎকালীন বিধাননগরের মেয়র বলেছিলেন, “সবার আগে দেশ। তারপর দল।” সে দিন তাঁর গলায় ‘ভারত মাতাকি জয়’ শুনে অনেকেই চমকে উঠেছিলেন। মঙ্গলবারের নেতাজি ইনডোরে একই কথা বললেন সব্যসাচী। জানালেন, “ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ।” গলার শির ফুলিয়ে স্লোগান দিলেন, “ভারত মাতাকি জয়।” পশ্চিমবঙ্গ ছোট পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সব্যসাচী।

    বিধাননগরের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে আর রাখঢাক করেননি সব্যসাচী। নিজের ওয়ার্ডের গণেশ পুজোয় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিজেপি-র শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, কৈলাস বিজয়বর্গীয়, অরবিন্দ মেননরা গিয়ে সব্যসাচীর পুজোর শুধু ফিতেই কাটেননি, পাত পেড়ে ভোগও খেয়েছিলেন। এর আগেও সব্যসাচীর বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার জল্পনা দানা বেঁধেছিল। কিন্তু তিনি যাননি। সোমবার যখন নিজে মুখে তিনি গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা স্বীকার করে নেন, তখনও তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, “রোজই তো যাব যাব বলে। আগে যাক। তারপর।” অবশেষে মঙ্গলবার বিজেপি-তে যোগ দিয়েই দিলেন সব্যসাচী। শুধু দিলেনই না, যে ভাষায় বক্তৃতা করলেন, তা শুনে অনেকেই বলছেন, অনেক দিন ধরেই ভিতরে ভিতরে গেরুয়া সত্তা লালন করেছেন তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More