হঠাৎ ছুটিতে বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি, মুখে কুলুপ অনুব্রত মণ্ডলদের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদ থেকে ছ’মাসের ছুটি চেয়ে নিলেন বিকাশ রায়চৌধুরী। ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে তিনি এই আবেদন করলে তা মঞ্জুরও হয়ে গিয়েছে। আপাতত জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে সহ সভাধিপতি নন্দেশ্বর মণ্ডলকে। ছুটির কারণ হিসেবে বিকাশবাবু জানিয়েছেন, তাঁর স্ত্রী ও পারিবারিক সমস্যার জন্যই তিনি ছ’মাস ছুটি নিচ্ছেন। যদিও তৃণমূলের অন্দরে কান পাতলেই নানান কথা শোনা যাচ্ছে সভাধিপতির ছুটি নিয়ে।

    ইতিমধ্যেই জেলা পরিষদের বনভূমি কর্মাধ্যক্ষ বন্দনা সাহাকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অন্য একটি সরকারি কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বীরভূম জেলা পরিষদে যে একাধিক রদবদল হবে তা পুজোর আগেই শোনা গিয়েছিল। কিন্তু সভাধিপতিই যে এমন ছুটিতে যাবেন, তা হয়তো অনেক তাবড় নেতাও আন্দাজ করেননি। যদিও এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করেননি দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।

    ২০১৩ সালের পঞ্চায়েতে প্রথম বীরভূম জেলা পরিষদের দখল নেয় তৃণমূল। তখন থেকেই সভাধিপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সভাধিপতি হিসেবে বিকাশবাবুর কাজ নিয়ে প্রশংসা শোনা গিয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলাতেও। গত তিনটি আর্থিক বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের গ্রামোন্নয়ন দফতরের দীনদয়াল উপাধ্যায় পুরস্কার পেয়েছিল বিকাশ রায়চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বীরভূম জেলা পরিষদ।

    কিন্তু বিকাশবাবু তো শুধু জেলা পরিষদের সভাধিপতি নন। ছিলেন দলের সাংগঠনিক দায়িত্বেও। খয়রাশোল ব্লকের সাংগঠনিক কাজ করার জন্য যে কোর কমিটি তৈরি হয়েছিল, তার চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। কিন্তু দলের সঙ্গে যে বিকাশবাবুর দূরত্ব তৈরি হচ্ছে তা বোঝা গিয়েছিল কয়েক মাস আগেই। খয়রাশোলের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে ছেঁটে ফেলা হয় তাঁকে।

    এর মধ্যেই আবার শোনা যাচ্ছে, আপাতত জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদে সহ সভাধিপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও, গোটা কাজ পরিচালনার জন্য দলের অন্যতম নেতা তথা অনুব্রত মণ্ডলের স্নেহধন্য অভিজিৎ সিং ওরফে রানাকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। যদিও অভিজিৎবাবু, এই জল্পনার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, “আমি কোনও জেলা পরিষদের দায়িত্বে যাচ্ছি না।”

    পর্যবেক্ষকদের মতে, বীরভূমের প্রশাসন থেকে দল—সবটাই একজন নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি অনুব্রত মণ্ডল। তাঁদের কথায়, এই গোটা ব্যাপারটা অনুব্রতবাবুর নির্দেশেই হয়েছে। তিনি জানেন না এটা শিশুও বিশ্বাস করবে না। আপাতত বীরভূমের রাজনীতির চর্চায় একটিই বিষয়, নন্দেশ্বরবাবু তো নয় সাময়িক দায়িত্ব সামলাবেন। কিন্তু এরপর কে?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More