বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১
TheWall
TheWall

জোড়া ছুটির দিন জগদ্ধাত্রী পুজোয়, জেনে নিন কোন পথে ঠাকুর দেখবেন চন্দননগরে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছট পুজোয় দু’দিন ছুটি দিয়েছে রাজ্য সরকার। আর তাতেই জগদ্ধাত্রী পুজোয় জোড়া ছুটি দিয়েছে ক্যালেন্ডার। কলকাতায় চাইলে পুজোর পরেও ঠাকুর দেখা যায়, কিন্তু চিরকালীন নিয়ম মেনে এখনও চন্দননগরে দশমীতেই সব প্রতিমার নিরঞ্জন হয়। এমনিতেই পুজো এবার পাঁচদিনের। দু’দিন অষ্টমী। তার সঙ্গে প্রায় সব পুজোরই আগাম উদ্বোধন হয়ে যাওয়ায় পঞ্চমীতেই জমজমাট অতীতের ফরাসিনগরী।

জমে উঠেছে চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো। সঙ্গে আলোকনগরীর আলোকমালা। জেনে নিন কোন রুটে কী ভাবে ঠাকুর দেখবেন—

আপনি যদি সব ঠাকুর দেখতে চান, তবে দু’টি দিন হাতে রাখতেই হবে। তবে দিনে নয়, রাতেই তো চন্দননগরের আকর্ষণ বাড়ে।

পূর্ব রেলের হাওড়া-বর্ধমান মেন শাখার ট্রেন ধরে নামুন মানকুণ্ডু স্টেশনে। আসলে চন্দননগর শহরের স্টেশন দু’টি। সেখানে নেমে স্টেশন রোড ধরে সোজা জ্যোতির মোড় পর্যন্ত আসুন। পথেই পাবেন— মানকুণ্ডু স্পোর্টিং ক্লাব, নতুন পাড়া, নিয়োগী বাগান, বালক সংঘ, সার্কাস মাঠ, চারা বাগানের পুজো।

জ্যোতির মোড় থেকে ডান দিকে জিটি রোড ধরে ভদ্রেশ্বরের দিকে যান। পথে পাবেন ছুতোর পাড়া, অরবিন্দ সংঘ, বারাসত ব্যানার্জি পাড়া, বারাসত চক্রবর্তী পাড়া, বারাসত গেট, তেঁতুলতলার প্রতিমা।

আবার ফিরে আসুন চন্দননগরের জ্যোতির মোড়ে। দেখে নিন তেমাথার বিশাল প্রতিমা। এবার আবার সুবর্ণ জয়ন্তী। দেখুন মাথা উঁচু করে। এর পরে শিবমন্দিরের পুজো দেখে সোজা রাস্তা ধরে গোন্দলপাড়ার দিকে এগিয়ে যান। এই পথে সেরা পুজোর মধ্যে পাবেন— অম্বিকা অ্যাথলেটিক্স, এ সি চ্যাটার্জি লেন, মরান রোড, মনসাতলা, সাতঘাট, কাছারিঘাট, নতুন তেলিঘাট, চারমন্দির তলা, বেশোহাটা।

এবার ডানদিকে স্ট্রান্ড রোডের দিকে সোজা আসতে থাকলে দেখতে পাবেন— দৈবকপাড়া, নোনাটোলা, বড়বাজার।

অনেকটা পথ হেঁটে ফেলেছেন। মনে রাখবেন এই ক’দিন চন্দননগরে কোনও রকম যানবাহন চলাচাল করে না। সুতরাং, বড়বাজার থেকে সোজা বাগাবাজারের প্রাচীন পুজো দেখে স্টেশন রোড ধরুন। পথে পাবেন বাগবাজার মধ্যাঞ্চল, ফটকগোড়া, মধ্যাঞ্চল, খলিসানির ঠাকুর।

অনেক রাত পর্যন্ত স্পেশাল ট্রেন চলে। চন্দননগরে কোনও পরিচিত বা আত্মীয়ের বাড়ি না থাকলে ট্রেন ধরে ফিরে যান।

দ্বিতীয় দিন আরও একটু শক্তি সঞ্চয় করে আসুন। এবার অবশ্যই চন্দননগর স্টেশনে নামুন। পশ্চিম দিকে কলপুকুরধার, শীতলাতলা, বউবাজার, সুভাষপল্লির পুজো দেখতে ভুলবেন না। উপায় নেই, ভিড় ঠেলেই ফিরতে হবে একই রাস্তায়। রেল আন্ডারপাস হয়ে কোনও ঠাকুর না দেখে সোজা হাঁটুন আর পৌঁছে যান কলুপুকুরে। বিখ্যাত লাইট এখানে। একই ভাবে ওই রাস্তা নিয়ে যাবে পুকুরে আলোর সাজ দেখার পুজো বিদ্যালঙ্কারে। এখান থেকে বাঁ হাতে হাটলে প্রথমে হেলাপুকুর ধার, পালপাড়া, সুরেরপুকুর, কাঁটাপুকুর, সন্তানসঙ্ঘ, হরিদ্রাডাঙা দেখে পৌঁছে যাবেন চন্দননগরের উত্তরতম প্রান্তে।

এবার ফের জিটি রোড ধরে দক্ষিণের দিকে। একের পরে এক বড় পুজো। বোড়ো তালডাঙা, বোড়ো দিঘিরধার, বোড়ো চাঁপাতলা, বোড়ো সর্বজনীন, বোড়ো কালীতলা, সরিষাপাড়া।

এখানেই পড়বে লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার। এই এলাকায় তিনটি পুজো মিস করবেন না। চাউলপট্টিতে আদি মা, কাপড়ের পট্টিতে মেজ মা, সেরা সাজের প্রতিমা লক্ষ্মীগঞ্জ বাজার।

মোটামুটি সব বড় পুজো মণ্ডপই ঘুরে ফেলেছেন আপনি। পা-ও ক্লান্ত। রাতের শেষ এবার হাঁটতে শুরু করুন চন্দননগর স্টেশনের দিকে। সকাল হয়ে গেলে রিক্সা টোটোও পেয়ে যেতে পারেন।

দশমীতে একটুও হাঁটবেন না। বসে পড়ুন একটা চেয়ার ভাড়া করে। সামান্য টাকাতেই ভাড়া পাওয়া যায়। আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, বাংলার প্রাচীনতম কার্নিভ্যাল আপনার সামনে দিয়ে যাবেই। থিম-ভিত্তিক আলো নিয়ে সেই শোভাযাত্রা উপভোগ করুন একেবারে সকাল পর্যন্ত।

পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯ – এ প্রকাশিত গল্প

স্যার, খুন আমি করেছি

Comments are closed.