মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

ঋতুপর্ণা-অনুরাগ কাশ্যপের ছবির জন্য ব্যাহত পরিষেবা, জলপাইগুড়ি হাসপাতাল চত্বরে বন্ধ হল শ্যুটিং

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: স্বাস্থ্য দফতরের অনুমতি ছাড়াই সকাল থেকে হই হই করে শুরু হয়েছিল ছবির শ্যুটিং। বন্ধ রাখা হয়েছিল হাসপাতালের বেশ কয়েকটি ইউনিট। ফলে চরম হয়রানির শিকার হতে হয় স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীদের। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় রোগীদেরও। ক্ষোভের মুখে হাসপাতাল চত্বরে ছবির শ্যুটিং বন্ধ করার নির্দেশ দেন জলপাইগুড়ি অতিরিক্ত জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল।

গত ২৫ মে থেকে বলিউড ছবিতে ‘বাঁশুরি’-র শ্যুটিং শুরু হয়েছে জলপাইগুড়িতে। বুধবার জলপাইগুড়ি স্বাস্থ্য দফতরের প্রশাসনিক ভবনের পিছনের দিকে শ্যুটিং চলছিল। তার জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল হাসপাতালের লেপ্রসি ও পি পি বিভাগ। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছিল শ্যুটিং। গোল বাধে বেলা গড়াতেই। হাসপাতাল কর্মীদের অভিযোগ, এই পি পি বিভাগে অনেক মায়েরাই তাঁদের সন্তানদের নিয়ে আসেন। ইউনিট বন্ধ থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের। অনেকেই চেক আপ করাতে না পেরে ফিরে যান। অন্যদিকে সকালের ব্যস্ত সময়ে শ্যুটিং শুরু হওয়ায় হাসপাতালের কাজ শুরু করতেও সমস্যা হয় স্বাস্থ্য কর্মীদের।

হলদিবাড়ি থেকে আসা রোগী গোবিন্দ সরকারের অভিযোগ, অনেক রোগীকেই আউটডোরে দেখাতে যেতে ঘুরে যেতে হয়েছে। অপেক্ষা করতে হয়েছে অনেককে। পি পি বিভাগে দেখাতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে প্রসূতি মায়েদের।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কথায়, শ্যুটিং দেখতে হাসপাতাল চত্বরে ভিড় বাড়তে থাকে। একসময় ভিড় সামলানোই কঠিন হয়ে পড়ে।  জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক ডঃ জগন্নাথ সরকারকে পুরো বিষয়টা জানানো হয়। তিনি বলেন, সকাল ৯ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত শ্যুটিং করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তাতে কোনও সমস্যা হয়নি। কিন্তু স্বাস্থ্য ইউনিট বন্ধ করে শ্যুটিং করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।  হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় জলপাইগুড়ি অতিরিক্ত জেলাশাসক সুনীল আগরওয়ালকে বিষয়টা জানানো হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর নির্দেশেই হাসপাতাল চত্বরে বন্ধ করে দেওয়া হয় ছবির শ্যুটিং।

‘বাঁশুরি’ ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। ছবির পরিচালক হরি বিশ্বনাথন। এই ছবিতে ঋতুপর্ণার বিপরীতে দেখা যাবে অনুরাগ কাশ্যপকে। য়দিও এ দিন ছবির শ্যুটিং-এ ছিলেন না তিনি। সূত্রের খবর, হাসপাতাল চত্বর ছেড়ে জলপাইগুড়ির অন্য জায়গায় ছবির শ্যুটিং শুরু হয়েছে।

Comments are closed.