জলমগ্ন জলপাইগুড়িতে ত্রাণ বিলোলো সিপিএমের যুবরা, কিন্তু তৃণমূল কই?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: দু’মাস আগের লোকসভা ভোটে বাংলায় আসন সংখ্যা শূন্য। ভোট শতাংশে  ডবল ডিজিটও হয়নি। গা ঝাড়া দিয়ে ওঠার কোনও লক্ষ্মণই নেই। সেই সিপিএমের যুব সংগঠনই কি না বন্যার ময়দানে দাপিয়ে বেড়াল। পার্টি অফিসে খিচুড়ি রান্না করে, চিড়ে-গুড় প্যাকিং করে জলমগ্ন জলপাইগুড়ি শহরের ২৫টি ওয়ার্ডের বাড়ি-বাড়ি ত্রাণ পৌঁছনোর কাজ করল সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই।

    দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির আকাল থাকলেও, ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। ফুঁসছে নদী। ভাঙনের কবলে বাড়ি-ঘর। বাদ যায়নি জলপাইগুড়িও। শহরের আনাচেকানাচে জল ঢুকে গিয়েছে। যদিও ইতিমধ্যেই তা নামতে শুরু করেছে। কিন্তু এই বন্যাতে বাম যুবদের পারফরম্যান্স দেখে, কপাল কুঁচকোচ্ছেন অনেকেই।

    ডিওয়াইএফআই-এর নেতাকর্মীরা যখন এক কোমর জল ডিঙিয়ে জলবন্দি মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন, তখন তৃণমূল কার্যত ভ্যানিশ। লোকসভা হাতছাড়া হলেও পুরসভা তৃণমূলের। জেলা পরিষদও ঘাসফুলের দখলে। কিন্তু এই বন্যায় তৃণমূলকে দেখতেই পেল না জলপাইগুড়ি শহর। বদলে উনিশের সিপিএমের যুবদের দেখে অনেককেই বলতে শোনা গেল, ‘এ তো নব্বইয়ের ডিওয়াইএফআই!’ অথচ গতবার বর্ষায় এই জলপাইগুড়ি শহরেই লঙ্গরখানা খুলে ত্রাণ বিলি করেছিলেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

    বিজেপি-কে ঠেকাতে বিধানসভা অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান এবং বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর উদ্দেশে বলেছিলেন, “মান্নান ভাই, সুজনদা, বিজেপি-কে ঠেকাতে এখন আমাদের একসঙ্গে আসা দরকার!” তাহলে কি ইচ্ছে করেই রাম ঝড় ঠেকাতে বামেদের জায়গা দিচ্ছে তৃণমূল? দলের জলপাইগুড়ি জেলার প্রাক্তন এক জেলা সভাপতি বলেন, “ভোটের যা ফলাফল, তাতে দেখা গিয়েছে বামদের ভোটই রামেদের দিকে গিয়েছে। এখন উচিত ওদের একটু জায়গা দেওয়া।” এরপরই স্বগতোক্তি করে বলেন, “কিন্তু ওরা কি পারবে!”

    যদিও তৃণমূলের ‘স্পেস দেওয়ার’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়েছে ডিওয়াইএফআই। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক তথা সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সায়নদীপ মিত্র বলেন, “কাটমানি নিয়ে এখন নজরদারি চালু হয়েছে। চিড়ে-গুড় থেকে কাটমানি খেতে পারবে না বলেই তৃণমূল ময়দানে নেই।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আসন কটা, সেটা বিচার্য নয়। এটাই বামপন্থীদের সঙ্গে তৃণমূলের ফারাক, মানুষের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানোটাই আমাদের সংগঠনের শিক্ষা।” জলপাইগুড়ি পুরসভার সিপিএম কাউন্সিলর তথা ডিওয়াইএফআই-এর জেলা সম্পাদক প্রদীপ দে বলেন, “পার্টির ভবিষ্যৎ এখন আমাদের কাঁধেই। পুরনো দিনের কাজকর্মগুলি ফিরিয়ে এনে মানুষের আস্থা অর্জনই এখন একমাত্র লক্ষ্য।”

    রাজনৈতিক কৌশল বা সমীকরণ যাই থাক, জলমগ্ন জলপাইগুড়ি দেখল তৃণমূল নেই। বরং বিপুল সান্যাল, প্রদীপ দে-র মতো দুই প্রজন্মের বাম নেতারা জল ঠেলে ত্রাণ বিলি করলেন বাড়িবাড়ি।

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More