রানিগঞ্জে শিশু নিখোঁজ, ১০ দিন পরে খাদানে মিলল দেহ

ড্রোনের সাহায্যে তল্লাশি করেও খোঁজ পাওয়া যায়নি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার দশ দিন পরে একটি খাদান থেকে মিলল আড়াই বছরের শিশুর দেহ। এর আগে পুলিশ-কুকুর দিয়ে স্থানীয় জঙ্গলে তল্লাশি করা হয়, পরে ড্রোনের সাহায্যে তল্লাশি করেও ওই শিশুর সন্ধান পায়নি পুলিশ।

    ৩০ জানুয়ারি অদ্ভুত ভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় আড়াই বছরের ছেলে সঞ্জয় তাঁতি। সে রানিগঞ্জ থানার পাঞ্জাবি মোড় ফাঁড়ির মঙ্গলপুর স্কুলপাড়ার বাসিন্দা দিলীপ তাঁতির ছেলে। ৩১ জানুয়ারি দিলীপ তাঁতি পাঞ্জাবি মোড় ফাঁড়িতে নিখোঁজের অভিযোগ জানায়।

    অভিযোগ পাওয়ার পর ফাগু ভুইঁয়া নামে স্থানীয় বাসিন্দাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সঞ্জয়ের রক্তমাখা জামার সন্ধান পায় পুলিশ। পরে পুলিশ-কুকুর এনে জঙ্গলে তল্লাশি করা হয় কিন্তু কোনও কিছুই পাওয়া যায়নি। এমনকি স্থানীয় ও জঙ্গলে ড্রোনের সাহায্যে তল্লাশি করেও কোনও সূত্র পায়নি পুলিশ। অন্যদিকে ধৃত ফাগু কোনও কিছু না বলায় পুলিশ প্রথমে আদালতে পাঁচ দিনের হেফাজত তায়, আদালত তা মঞ্জুর করে। পরে আরও পাঁচদিনের রিমান্ড পায়।

    দশ দিনের মাথায় গ্রামবাসীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে মঙ্গলপুর জঙ্গলের প্রায় ৫০০ মিটার দূরে পরিত্যক্ত একটি খাদানে দেহটি দেখতে পায় পুলিশ। মাটির প্রায় দুশো ফুট নীচ থেকে সঞ্জয়ের পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    হাসপাতালে সঞ্জয়ের বাবা দিলীপ তাঁতি জানান, সরস্বতী পুজোর পরের দিন ভাত খাওয়ার পরে বাচ্চারা খেলছিল। সেই সময় ফাগু বিস্কুট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে তাকে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও ছেলে ফিরে না আসাতে ফাগুকে ধরে গ্রামবাসীরা এবং তার বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা করা হয়। সোমবার সকালে এলাকারই এক মহিলা জদুরী বাউড়ি ছাগল চরাতে গিয়ে জঙ্গল থেকে অনেক দূরে খাদানের মধ্যে কিছু পড়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসীদের জানান। তখনই গ্রামবাসীরা পুলিশে খবর দেন।

    পুলিশ এসে ২০০ ফুট নীচ থেকে দেহটি উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দিলীপের এক মেয়ে ও চার ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে সঞ্জয়।

    ময়নাতদন্তের পর পুলিশ জানায় সঞ্জয়ের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সম্ভবত নীচে নেমে পড়ে সে আর উঠতে পারেনি। কিছু না খেতে পেয়ে ও ঠান্ডায় মারা গেছে।

    ইসিএলের পুরনো খাদানে মাটি কেটে সিঁড়ির মতো করা থাকত। সেই সিঁড়ি ধরে নেমে গিয়েছিল সঞ্জয় কিন্তু তারপরে আর উঠতে পারেনি।

    ফাগুর বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা চলছিল আজ, তার দশদিনের রিমান্ডের শেষ দিন ছিল। সঞ্জয়ের দেহ পাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা চালানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More