কোভিডে মৃত নেতার দেহ নিয়ে শোক মিছিল পানিহাটিতে, সংক্রমণের আশঙ্কা করে মুখ্যমন্ত্রীর সমালোচনায় বিজেপি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মৃত্যু হয়েছিল করোনা আক্রান্ত পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্তমান প্রশাসক স্বপন ঘোষের। শুক্রবার তাঁর দেহ নিয়ে হাজার খানেক মানুষের শোক মিছিল ঘুরেছিল এলাকায়। কী করে কোভিডে মৃতের দেহ হাসপাতাল ছেড়ে দিল এবং প্রয়াত নেতার দেহ নিয়ে ‘তৃণমূল’ এলাকা ঘুরল সেই প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং।

ব্যারাকপুরের বিজেপি সাংসদ বলেন, “আইসিএমআরের কোনও গাইডলাইন মানা হচ্ছে না বাংলায়। সাধারণ মানুষের জন্য এক আইন আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নেতা করোনায় মারা গেলে আরএক আইন। রাজ্যে কোনও সিস্টেম নেই।”

স্বপনবাবু পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষের দাদা। জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন নির্মলবাবু। পাণিহাটির তৃণমূল বিধায়ককে ভর্তি করা হয়েছিল বাইপাসের ধারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। নির্মল বাবুর থেকেই আক্রান্ত হন তাঁর দুই ছেলে এবং তাঁর দাদা স্বপন ঘোষ। নির্মলবাবু এবং তাঁর দুই ছেলে সুস্থ হয়ে উঠলেও, স্বপনবাবু আর সেরে ওঠেননি।

সাংসদ অর্জুনের আশঙ্কা, যে ভাবে মরদেহ নিয়ে পানিহাটি পুরসভা, প্রয়াত নেতার বাড়ি এবং সারা মহল্লা ঘুরেছে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এলাকাতেও। পানিহাটির বাসিন্দাদের অনেকেই অভিযোগ করেন, শুক্রবার যে ভাবে শাসকদলের নেতৃত্বে লোক জড়ো করে শোক মিছিল করা হয়েছে, সেখানে শারীরিক দূরত্বের কোনও বালাই ছিল না। অনেকের মুখে মাস্কও ছিল না বলে অভিযোগ তাঁদের। এটা দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

প্রয়াত স্বপনবাবু ভর্তি ছিলেন এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। কিন্তু কী ভাবে হাসপাতাল দেহ ছেড়ে দিল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও কয়েক সপ্তাহ আগে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, করোনা উপসর্গ নিয়ে যদি হাসপাতালে আনার পথে বা ভর্তি করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাহলে টেস্টের অপেক্ষা করা হবে না। সেক্ষেত্রে বাড়ির লোক দেহ পাবে। কিন্তু সেই ‘মানবিক সিদ্ধান্ত’ ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, “আইসিএমআর-এর গাইডলাইন মেনেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিপিএম নেতা শ্যামল চক্রবর্তী প্রয়াত হয়েছেন। দেখা গিয়েছিল, সন্ধেবেলা গুটিকয়েক নেতা পিয়ারলেস হাসপাতালে গিয়ে মালা ও দলীয় পতাকা দিয়েই চলে এসেছিলেন। কোনও শোক মিছিল হয়নি। কারণ শ্যামলবাবু করোনা আক্রান্ত ছিলেন। কিন্তু পানিহাটির প্রাক্তন চেয়ারম্যানের শেষযাত্রা নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনায় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও। তিনি বলেন, “মৃত্যু সর্বদাই দুঃখের। কিন্তু তা নিয়ে রাজনীতি আরও দুঃখের। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যে রকম মহামারির আকার নিয়েছে, তাতে প্রত্যেকেরই দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। দেখেশুনে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে এর নেপথ্যে শাসক দলের নেতা জনপ্রতিনিধিরা রয়েছে। যাঁরা জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল নন, তাঁদের জনপ্রতিনিধি হওয়ার কোনও যোগ্যতাই নেই”।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More