বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

শিলং গেলেন রাজীব কুমার, কলকাতায় সিবিআই-এর বিশেষ দল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিবিআই-এর জেরার মুখোমুখি হতে কলকাতা থেকে শিলং-এর উদ্দেশে রওনা দিলেন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। শুক্রবার বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ বিমানবন্দরে পৌঁছয় রাজীব কুমারের গাড়ি। কালো প্যান্ট এবং ধূসর রঙের ব্লেজার পরে নগরপাল গাড়ি থেকে নেমেই ঢুকে যান বিমানবন্দরের ডোমেস্টিক টার্মিনালে।

অন্য দিকে শুক্রবার কলকাতায় পৌঁছেছে সিবিআই-এর বিশেষ দল। কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে চিটফান্ড কাণ্ডে জেরা করার ব্যাপারে দেশের শীর্ষ আদালতের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই কোমর বেঁধে নেমেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। বৃহস্পতিবার দশ জনের একটি টিম গঠন করে ফেলেছিল এজেন্সি। দিল্লি থেকে দমদমে পা রেখেই গোয়েন্দারা চলে যান সিজিও কমপ্লেক্সে। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দশ জনের মধ্যে কয়েকজন গোয়েন্দা, সারদার তদন্তকারী অফিসার তথাগত বর্ধন এবং সিবিআই-এর পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা পঙ্কজ শ্রীবাস্তব এদিনই উড়ে যাবেন শিলং-এ। তাঁরাই জেরা করবেন কলকাতার নগরপালকে।

সুপ্রিম কোর্ট রায় দেওয়ার দুপুরেই রাজীব কুমার সিবিআই-কে চিঠি লিখে জানিয়েছিলেন, তিনি ৮ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে দেখা করতে চান। কিন্তু সিবিআই সিপি-র তারিখে সম্মতি দেয়নি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তরফে তাঁকে বলা হয় ৯ ফেব্রুয়ারি শিলং পৌঁছতে। এর আগেও সিবিআই নোটিস পাঠিয়েছিল রাজীব কুমারকে। কিন্তু তিনি যাননি বলেই গোয়েন্দারা জানিয়েছেন আদালতে। তারপর বাংলার রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলের মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে সাইক্লোন। মুখ্যমন্ত্রী পর্যন্ত তাঁর ফোর্সকে প্রোটেক্ট করতে বসেছেন ধর্ণায়। তবে এ বার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ। তাই এ বার তাঁকে যেতেই হলো।

এর মধ্যে আবার সিবিআই আধিকারিকরা নোটিস দিয়ে শিলং যেতে বলেছেন সারদা কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ কুণাল ঘোষকে। তাঁকে পাহাড় ঘেরা শহরে ডাকা হয়েছে রবিবার অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি। রাজ্য সরকারের গঠন করা স্পেশাল ইনভভেস্টিগেশন টিম (সিট) যখন তদন্ত করছিল, তখনই কুণালকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই সময় কোর্টে হাজিরা দিতে গেলেই তিনি অভিযোগ করতেন তথ্য প্রমাণ লোপাট করা হচ্ছে। এখন দেখার শিলং-এ রাজীব কুমারের মুখোমুখি কুণালকে বসান কিনা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

বাংলা তথা জাতীয় রাজনীতির চোখ তাই এখন মেঘালয়ের পাহাড় ঘেরা শহরের দিকেই।

Shares

Comments are closed.