রবিবার, ডিসেম্বর ১৫
TheWall
TheWall

একদা কলকাতার নগরপাল দু’মাস ধরে গৃহবন্দি, সপ্তাহে দু’দিন উকিলের বাড়ি যাওয়ায় শর্তসাপেক্ষে ছাড়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর গতিবিধি নিয়ে গত ৩০ মে হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ যে রায় দিয়েছিল, সোমবারের শুনানিতে প্রায় তা-ই বহাল রাখলেন বিচারপতি মধুমতী মিত্র। কলকাতার প্রাক্তন নগরপাল রাজীব কুমারের গৃহবন্দি দশা কাটল না। এ দিনের শুনানির পর বিচারপতি জানিয়েছেন, আগামী দু’ সপ্তাহ রাজীবকুমারকে গ্রেফতার করা যাবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সপ্তাহে যে কোনও দু’দিন রাজীব চাইলে তাঁর আইনজীবীর বাড়ি যেতে পারেন, আইনি পরামর্শের জন্য। অন্য কোথাও নয়। তবে আইনজীবীর বাড়িতে যাওয়ার হলে, তা সিবিআই-কে অন্তত চব্বিশ ঘণ্টা আগে জানাতে হবে, যে তিনি কখন যাচ্ছেন। আগামী বুধবার ফের এই মামলার শুনানি হবে বিচারপতি মধুমতী মিত্রের এজলাসে।

সুপ্রিম কোর্ট রাজীব কুমারের উপর থেকে রক্ষাকবচ তুলে নেওয়ার পর, সিবিআই নোটিস পাঠিয়েছিল তাঁকে। সেই নোটিস নিয়ে বারাসত কোর্টেও ধাক্কা খেতে হয়েছিল রাজীবকে। তারপর কলকাতা হাইকোর্ট শর্ত সাপেক্ষে সাময়িক রক্ষাকবচ দেয় কলকাতার প্রাক্তন নগরপালকে। সিবিআই-কে বলা হয়, এখনই গ্রেফতার করা যাবে না রাজীবকে। একই সঙ্গে রাজীবকে আদালত বলে, সিবিআই যখন যখন ডাকবে, তখন তখন হাজিরা দিতে হবে। পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে। তিনি বাড়িতে রয়েছেন কি না, তা জানতে সিবিআই আধিকারিকদের বাড়ি বয়ে গিয়ে হাজিরা নেওয়ারও অনুমতি দিয়েছিল বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি প্রতীকপ্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চ।

চিটফান্ড তদন্তে রাজ্য সরকার যে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করেছিল, তার প্রধান ছিলেন তৎকালীন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। সিবিআই একাধিকবার আদালতে দাবি করেছে, রাজীবের নেতৃত্বেই তথ্যপ্রমাণ লোপাট করা হয়েছে। এর মাঝে অনেক জল গড়িয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে শিলং-এ সিবিআই-এর জেরার মুখে পড়তে হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই আইপিএস-কে। টানা পাঁচদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলে জেরা। গত মাসেও সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের জেরার মুখে বসতে হয়েছিল রাজীবকে।

ভোটের সময়ে তাঁকে বাংলা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। অ্যাটাচ করে দেওয়া হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে। দিল্লি থেকে রিলিজ দেওয়ার আগেই নবান্ন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এডিজি সিআইডি পদে পুনর্বহাল করা হয় রাজীবকে। কিন্তু হাইকোর্ট স্পষ্ট বলে দেয়, রাজ্য সরকারের কোনও কাজে যোগ দিতে পারবেন না রাজীব। তারপর থেকেই গৃহবন্দি তিনি। এ দিনের পরেও বিশেষ কোনও পরিবর্তন হল না।

আরও পড়ার জন্য ক্লিক করুন www.thewall.in-এ

Comments are closed.