মঙ্গলবার, জুন ২৫

‘দিদি, বর্ডার এলাকায় বিএসএফ ডিসটার্ব করছে’, মমতাকে ফোনে বললেন রবি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দার্জিলিং-এর চকবাজারে জনসভা করতে যাওয়ার আগে দিদি ফোন করলেন তাঁর কোচবিহারের ভাইকে। ভোট কেমন হচ্ছে, জানতে চেয়েছিলেন দিদি। কিন্তু দোর্দণ্ডপ্রতাপ ভাই দিদিকে অভয় তো দিতে পারলেনই না, উল্টে কমিশনকে না পেয়ে, দিদির কাছেই ভাইয়ের অভিযোগ, “দিদি, বর্ডার এলাকায় বিএসএফ ডিসটার্ব করছে।”

সূত্রের খবর, অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়েই কমিশনের বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগের ফিরিস্তি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শোনান কোচবিহারের তৃণমূল জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। সাংবাদিকদের উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী বলেন, “বর্ডার এলাকায় বিএসএফ সাধারণ মানুষকে বলছে, একে ভোট দাও, তাকে ভোট দাও। সীমান্ত ছেড়ে বুথে চলে আসছেন বিএসএফ জওয়ানরা। তাদের তো বুথে যাওয়ার এক্তিয়ার নেই।” শুধু বিএসএফ নয়। কমিশনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ মন্ত্রীর। তিনি জানান, কমিশনের আধিকারিকরা নাকি তাঁর ফোনই তুলছেন না।

কেন্দ্রীয়বাহিনীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি রবি ঘোষের

বুধবারই কোচবিহারে পৌঁছে গিয়েছিলেন কমিশন নিযুক্ত বাংলার স্পেশাল পুলিশ অবজার্ভার বিবেক দুবে। কিন্তু কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি কোচবিহার থেকে কলকাতার দিকে রওনা দেন। জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। তাই তিনি ফিরে যাচ্ছেন। বিবেক দুবের কলকাতা ফিরে যাওয়া নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “উনি কেন এলেন, কেনই বা ভোট শেষ করার আগে কলকাতা চলে গেলেন, সেটাই বুঝতে পারছি না। এখন আমরা অভিযোগটা জানাব কাকে?” সেই সঙ্গে আরও একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন রবিবাবু। তাঁর কথায়, “উনি ওনার কাজ সেরে দিয়েছেন। সেরে দিয়ে কলকাতা চলে যাচ্ছেন।” রাজনৈতিক মহলের অনেকেরই প্রশ্ন, অবজার্ভার ‘কাজ সেরে দিয়েছেন’ বলেই কি তৃণমূল জেলা সভাপতির গলায় পঞ্চায়েতের তেজ নেই? সব উধাও?

এ বার কোচবিহারের ভোট তৃণমূলের কাছে প্রেস্টিজ ফাইট। কারণ একদা তৃণমূলের ঝাণ্ডা কাঁধে কোচবিহার কাঁপানো যুব নেতা তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নিশীথ প্রামাণিককে প্রার্থী করেছে বিজেপি। প্রায় সবকটি জনমত সমীক্ষাতেও ছবি উঠে এসেছে, নিশীথ জিততে পারেন কোচবিহারে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সেই কারণেই হয়ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম কয়েক ঘণ্টার ভোটের ছবি কী তা খোঁজ নিচ্ছিলেন।

ভোট কেন্দ্রে নিশীথ

নিশীথও ঘুরে বেড়াচ্ছেন এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। কখনও মাথাভাঙা তো কখনও নিজের গড় দিনহাটা। যেখানে অভিযোগ পাচ্ছেন সেখানেই পৌঁছে যাচ্ছেন সশরীরে। দিনহাটার একটি বুথে বহিরাগতরা জমায়েত করেছে বলে খবর যায় নিশীথের কাছে। সাদা ইনোভা গাড়ি নিয়ে সটান সেই বুথের সামনে পৌঁছে যান সুদর্শন এই যুবনেতা। ঠাণ্ডা গলায় বহিরাগতদের প্রশ্ন করেন, “আপনারা কি এখানকার ভোটার? না হলে চলে যান। ঝামেলা বাড়াবেন না।” তারপর মৃদু হেসে বিজেপি প্রার্থী সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের বলেন, “খবর পেয়ে এসেছিলাম। বললাম। ওরা চলে গেছে।” কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন নিশীথও। তাঁর কথায়, একশো অভিযোগ জানানোর পরো নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নেয়নি। আবার যখন রবি ঘোষ রিপোলের দাবি করেছেন, তখন সাত সকালে নিশীথ বলে দিয়েছিলেন, “খেলা তো এখনো শুরুই হয়নি। পুরো দিন তো পড়ে আছে।”

পর্যবেক্ষকদের মতে, যে কোচবিহারের তৃণমূল ভোটের দিন সকাল দশটার সময় মার্জিন বলে দিত, তারাই বেলা বারোটা বেজে গেলেও জোর গলায় জয়ের দাবি করছে না। তার বদলে ভূরি ভূরি অভিযোগ করছে। এটাকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের অনেকে।

Comments are closed.