শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০

‘দিদিকে বলো’-র অনুষ্ঠানেও এ বার কাটমানি বিক্ষোভ, রবীন্দ্রনাথ ঘোষের সামনেই চলল ধস্তাধস্তি 

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জেলায় জেলায় কাটমানি নিয়ে অনেকদিন ধরেই চলছে বিক্ষোভ। তবে এ বার ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিতে গিয়ে কাটমানি ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন স্বয়ং রাজ্যের মন্ত্রী।

বিরোধীনেত্রী থাকার সময় আম জনতার হাজারো সমস্যায় বারবার ছুটে দেখা যেত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নানা ব্যস্ততার মাঝে সে ভাবে আর ছুটে যেতে পারতেন না তিনি। কিন্তু জনতার দরবারে যোগাযোগ তো রাখতেই হবে। তাই সম্প্রতি চালু হয়েছে ‘দিদিকে বলো’। এক ফোনেই যেখানে নিজের সমস্যা নিয়ে দিদির সঙ্গে কথা বলতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ মেনেই এই নতুন রাস্তা বেছে নিয়েছেন মমতা। নতুন স্ট্র্যাটেজিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে একটি ফোন নম্বর ও একটি ওয়েবসাইটের। কোনও সমস্যা বা মতামত থাকলে এ বার যে কেউ সরাসরি ফোন করতে পারবেন মুখ্যমন্ত্রীকে। কর্মসূচির পোশাকি নাম ‘দিদিকে বলো’। ৯১৩৭০৯১৩৭০ এই নম্বরে ফোন করলেই পাওয়া যাবে দিদিকে। শুধু তাই নয়। চাইলে লিখিত ভাবেও দিদির কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে সমস্যা বা মতামত। নেতাদের টপকে যে কথা দিদি পর্যন্ত পৌঁছয় না, সেই কথাই এ বার সরাসরি পাঠানো যাবে দিদির কাছে। www.didikebolo.com করে দেবে সেই সুযোগ।

এই ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি নিয়েই নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চিলাখানায় শুক্রবার হাজির হয়েছিলেন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। কিন্তু অনুষ্ঠান চলার মধ্যেই শুরু হলো গণ্ডগোল। কয়েক বছর আগে চাকরি পাবেন ভেবে টাকা দিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা এমদাদুল হক ও মহিরউদ্দিন। তবে কপালে চাকরি জোটেনি। তাই এ দিনের অনুষ্ঠানে সেই টাকা ফেরতের দাবিতেই শোরগোল ফেলে দেন এই দুই ব্যক্তি। মন্ত্রীর সামনেই শুরু হয় ধস্তাধস্তি। উপস্থিত বাকিরা তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিষয়টা ধামাচাপা দেওয়া যায়নি। প্রতিবাদে তেড়েফুঁড়ে ওঠেন এমদাদুল এবং মহিরুদ্দিন।

‘দিদিকে বলো’ অনুষ্ঠানের মাঝেই শুরু হয় হয় চরম বিশৃঙ্খলা। যদিও মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় শাসক দলের কেউ জড়িত নয়। বরং এ ঘটনা বাম জমানার। ‘দিদিকে বলো’ অনুষ্ঠানে অশান্তি করবে বলেই ইচ্ছে করে বিরোধীরাই এই চক্রান্ত করেছে বলেও দাবি করেছেন মন্ত্রী।

Comments are closed.