সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্রের পরেও কেন বন্ধ ‘ভবিষ্যতের ভূত’? লিখিত অভিযোগ দায়ের প্রযোজক সংস্থার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছবি রিলিজের একদিনের মধ্যেই শহরের বিভিন্ন হলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবির প্রদর্শন। মাল্টিপ্লেক্স থেকে সিঙ্গল স্ক্রিন, তালিকায় রয়েছে সবই। কিন্তু কেন আচমকাই অনীক দত্তর এই ছবি বন্ধ করে দেওয়া হলো, সে ব্যাপারে কোনও সঠিক কারণ দেখাতে পারেননি হল মালিকরা। কোথাও বলা হয়েছে যান্ত্রিক ত্রুটি। কেউ বা বলছেন, ‘ওপর মহলের অর্ডার আছে’। তবে কে বা কারা এই ‘ওপর মহল’ তা জানা যায়নি। এমনকী আগাম টিকিট কেটে নেওয়া দর্শকদের টাকাও ফেরত দেওয়া হয়েছে।

    পরিচালক অনীক দত্ত জানিয়েছিলেন, ছবি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাপারে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রযোজকরাই নেবেন। সেই মতোই ব্যবস্থা নিয়েছে ছবির প্রযোজনা সংস্থা Indibility Creative Private Limited (ICPL)। ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর প্রযোজক কল্যাণময় চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, Eastern India Motion Pictures Association (EIMPA)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে ওই অভিযোগ পত্রে ছবি বন্ধ করে দেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। প্রযোজকের কথায়, ছবি রিলিজের আগে ছাড়পত্র দিয়েছিল সেন্সর বোর্ড। সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী কোনও ছবির প্রদর্শন বন্ধ করার অধিকার একমাত্র সেন্সর বোর্ডের। বাকি কোনও সংস্থা তা করতে পারে না। তারপরেও বিভিন্ন হলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ‘ভবিষ্যতের ভূত’-এর স্ক্রিনিং। কোনও যুক্তিসংগত কারণও দেখাতে পারেননি হল মালিকরা। ছবির প্রযোজক কল্যাণময় চট্টোপাধ্যায়ের মতে, এই বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে সেন্সর বোর্ড ও আদালতের অবমাননা করা হয়েছে।

    ৪৪টি হলে ‘ভবিষ্যতের ভূত’ দেখানোর ছাড়পত্র পেয়েছিল ICPL। তাঁদের অভিযোগ, যতগুলো হল তাঁরা চেয়েছিলেন তাঁর থেকে সংখ্যায় অনেক কম হল দেওয়া হয়েছিল। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হলে সিনেমা প্রদর্শনের জন্য আগাম টাকাও নিয়েছিলেন হল মালিকরা। কিন্তু তারপরেও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ছবির প্রদর্শন। এ হেন ঘটনায় স্বভাবতই ক্ষুব্ধ ছবির কলাকুশলীরা। বিভিন্ন হলের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন দর্শকের একাংশও। কিন্তু সুরাহা হয়নি। বরং প্রায় ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে ছবির প্রদর্শন।

    পরিচালক অনীক দত্ত আগেই জানিয়েছিলেন, রিলিজের কিছুদিন আগে প্রযোজকের কাছে ছবির বিষয় সম্পর্কে জানতে চায় পুলিশ। একটি চিঠিও পাঠানো হয় কলকাতা পুলিশের তরফে। আলাদা করে ছবির স্ক্রিনিং করার কথাও বলা হয়েছিল সেই চিঠিতে। তবে সে সময় প্রযোজনা সংস্থা পুলিশকে জানায় যে এই ছবি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়েছে। অতএব ছবির বিষয়ে আপত্তিজনক কিছুই নেই। কিন্তু তারপরেও শনিবার বিকেল থেকেই শহরের বেশ অনেকগুলো হলেই বন্ধ করে দেওয়া হয় ছবির প্রদর্শন।

    যাঁরা ইতিমধ্যেই ছবিটি দেখে ফেলেছেন তাঁদের একাংশের দাবি, হালফিলের রাজনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটের অনেক কিছুই নিজের ছবিতে তুলে ধরেছেন অনীক। সম্ভবত সিস্টেমের বিরুদ্ধে বেশ কিছু জিনিস সিনেমায় রাখার ফলেই সমস্যা হয়েছে সমাজের একাংশের। আর তাই এ ভাবে অকারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অনীক দত্তর ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’। কিন্তু কোনও লিখিত অভিযোগ ছাড়া কী এ ভাবে বন্ধ করে দেওয়া যায় কোনও ছবির প্রদর্শন। এখন এই প্রশ্নই উঠছে বিভিন্ন মহলে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More