হরিজন বস্তিতে করোনা সংক্রমণের জের, হাওড়া পুর এলাকায় সমস্যা জঞ্জাল সাফাইয়ে

সাফাই কর্মীরা হাওড়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে বাস করেন। তাঁরা সংক্রামিত হয়ে কোয়ারেন্টাইনে থাকলে শহর জঞ্জালে ভরে গিয়ে নানা রকম জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাওড়ার হরিজন বস্তিতে করোনা সংক্রমণের জেরে ধাক্কা খেয়েছে পুর পরিষেবা। সমস্যা হচ্ছে জঞ্জাল সাফাইয়ে। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের হরিজন বস্তির বহু লোক হাওড়া পুর নিগমে সাফাইকর্মী হিসাবে কাজ করেন। ওই এলাকা সিল করে দেওয়ার ফলে সেখান থেকে কেউ কাজে যোগ দিতে পারছেন না। ফলে পুর এলাকায় জঞ্জাল সাফাইয়ে সমস্যা হচ্ছে। সাফাই কর্মীদের উপরেও এখন বাড়তি চাপ পড়ছে।

    কর্মীর অভাবে অনেক জায়গায় নর্দমা ঠিক মতো সাফ হচ্ছে না। বিভিন্ন রাস্তায় ঝাড়ু দেওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।  হাওড়া পুর নিগমের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের হরিজন বস্তির মহিলা ও পুরুষ মিলিয়ে অন্তত দেড়শো জন শহরের বড় অংশের রাস্তা ঝাড়ু দেন ও কঠিন বর্জ্য পরিষ্কার করেন। প্রধান রাস্তা ও চওড়া গলি ঝাড়ু দেওয়া হচ্ছে তবে ময়লা জমছে অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণ গলিগুলিতে।

    মাঝেমধ্যেই বৃষ্টি হচ্ছে। তাতে জল জমছে। মশার উপদ্রবও বাড়ছে। রাস্তা ঠিকমতো সাফ না হওয়া ও বেশ কয়েক দিন ধরে নর্দমা পরিষ্কার না হওয়ায় হাওড়া পুর এলাকার লোকজন শঙ্কিত। এই অবস্থায় রাস্তাঘাট দিনের পর দিন সাফ না হলে এবং নর্দমায় ময়লা জমতে থাকলে জীবাণু ছড়াতে পারে। তা ছাড়া জমা জলে মশার বংশ বৃদ্ধি ঘটে। ফলে ডেঙ্গির আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

    সাফাই কর্মীদের পিপিই না দেওয়া হলে তাঁরা সংক্রামিত হতে পারেন

    করোনার জেরে এখন রেড জোন হাওড়া। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন হাওড়াকে অরেঞ্জ জোনে নিয়ে আসতে। তা তো হয়নি বরং লাফিয়ে বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। শুধু হরিজন বস্তিতেই নতুন করে আক্রান্ত ৩২ জন। যে ১৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল তাঁদের অনেকের শরীরের করোনার কোনও উপসর্গ ছিল না। উপসর্গ না থাকা সত্ত্বেও আক্রান্তের তালিকায় তাঁরা আছেন। এতে উদ্বিগ্ন প্রশাসন।

    হাওড়ার (মধ্য) বিধায়ক তথা মন্ত্রী অরূপ রায় বলেন, “ওখানে (হরিজন বস্তি) যাঁরা থাকেন তাঁদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না তবে অন্য সাফাই কর্মীদের দিয়ে আমরা কাজ করিয়ে নিচ্ছি।” তাতে যে সমস্যা মিটছে না তা বুঝতে পারছেন হাওড়ার বাসিন্দারা।

    সাফাই কর্মীদের মধ্যে করোনা সংক্রমণ হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিপিএম। সাফাই কর্মীরা হাওড়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে বাস করেন। তাঁরা সংক্রামিত হয়ে কোয়ারেন্টাইনে থাকলে শহর জঞ্জালে ভরে গিয়ে নানা রকম জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে। তাঁরা দাবি করেছেন সাফাই কর্মীদের পিপিই কিট সরবরাহ করতে হবে। তবে হাওড়া শহরে দীর্ঘদিন পুরবোর্ড নেই। সম্প্রতি বদল হয়েছে পুরপ্রশাসক। এই অবস্থায় তারা খোলা চিঠি দিয়েই দায় সেরেছে সিপিএম।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More