শুক্রবার, জানুয়ারি ১৮

ধর্মঘটের নামে ফের শিশুদের পুলকারে ‘হামলা’, অভিযুক্ত ২২ জনকে আজ তোলা হবে আদালতে

দ‍্য ওয়াল ব‍্যুরো: পালসিট, বারাসতের পরে রাজাবাজার। ধর্মঘট সমর্থকদের বিক্ষোভের রোষ থেকে বাঁচল না খুদেদের স্কুলের পুলকার! ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হল বিক্ষিপ্ত ভাবে ছড়িয়ে থাকা বই, খাতা, স্কুলব্যাগ। ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সব মহল।

মঙ্গল ও বুধবার, ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা দেশ জুড়ে দু’দিন ব্যপী শ্রমিক ধর্মঘট সফল করতে মরিয়া ছিল বাম শ্রমিক সংগঠনগুলি। উল্টো দিকে শাসক দলও কড়া অবস্থান নিয়েছিল, বনধ সফল করতে দেওয়া যাবে না।

এই আবহে দু’দিনই বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়েছে নানা জায়গায়। কোথাও বাস ভেঙেছে, কোথাও ট্রেন আটকেছে। কোথাও আবার বাধা দেওয়া হয়েছে কর্মক্ষেত্রে। গ্রেফতারও হয়েছেন বহু ধর্মঘটী। কিন্তু এই সব কিছুর মধ্যেও, পুলকারের উপর আক্রমণ মেনে নেয়নি কেউই। এক তৃণমূল নেতার কথায়, “বাচ্চাদের উপর হামলা করা কোনও দিন রাজনীতির অংশ হতে পারে না!”

বস্তুত, যে কোনও রাজনৈতিক সমস্যার জেরেই শিশুদের উপর কোনও প্রভাব পড়লে, তা নিন্দনীয়। কিন্তু এ রাজ্যের রাজনীতি বারবার দেখেছে, এমনটা। কখনও পথ আটকানো হয়েছে পরীক্ষার্থীদের, কখনও আবার স্কুলগাড়ির উপর পড়েছে লাঠির বাড়ি। একাধিক বার আহতও হয়েছে খুদেরা। আক্রান্ত হয়েছে ট্রমায়। বারবার সমালোচনার ঝড় উঠেছে, বলা হয়েছে রাজনীতির আঙিনায় খুদেদের রক্ত বেমানান। কিন্তু তার পরেও যে পরিস্থিতি বিশেষ বদলায়নি, তার প্রমাণ রাজাবাজারের ঘটনাই। যদিও এই ঘটনায় আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক বা মানসিক অবস্থা কেমন, তার খোঁজ মেলেনি এখনও।

ধর্মঘট সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বুধবার রাজাবাজারের পাটোয়ার বাগান অঞ্চলে বনধের সমর্থনে বিক্ষোভ-অবস্থান চলছিল। চলছিল পুরোদমে পিকেটিং। সেই সময়েই ঘটনাস্থলে একটি স্কুলের পুলকার এসে পড়ায়, বিক্ষোভের মুখে পড়ে যায় সেটিও! অভিযোগ, ১৫ জন ছোট ছোট শিশু ছিল গাড়ির ভিতর। সে সব রেয়াত না করেই ভাঙচুর চলে তাতে। সশব্দে পড়ে লাঠির বাড়ি। ভাঙচুরের কাজে ব্যবহার করা হয় উইকেটও, যা পরে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাচ্চারা কান্নাকাটি করে, ভয়ে সিঁটিয়ে গেলেও থামেননি বিক্ষোভকারীরা।

ঠিক একই অভিযোগ ওঠে মঙ্গলবার, বারাসতে। একটি স্কুলের গাড়িতে আক্রমণ করেন ধর্মঘটীরা। বাচ্চাদের উপস্থিতিতেই চালান ভাঙচুর। নিন্দার ঝড় ওঠে ঘটনায়। খবর আসে, একই ঘটনা ঘটেছে পালসিটেও। অভিযোগ পরের দিন, বুধবারও একই ঘটনা ঘটেছে রাজাবাজারে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় উইকেটও।

এই নিন্দনীয় ঘটনাটি যে ঘটেছে, তা অস্বীকার না করে প্রবীণ বাম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, “আমরা খোঁজ নিচ্ছি। কী পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনা ঘটেছে তা বুঝতে হবে।” বিরোধীদের দাবি, সূর্য যুক্তি খাড়া করতে চাইছেন।

ঘটনার পরে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয় ২২ জন ধর্মঘটীকে। যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আছেন সিপিএম রাজ্যকমিটির সদস্য মধুজা সেনরায়, কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সংগ্রাম চট্টোপাধ্যায়ও।

সূত্রের খবর, বুধবার সারা রাত আমহার্স্ট স্ট্রিট থানায় আটক করে রাখা হয় ২২ জনকে। বৃহস্পতিবার ভোরে লালবাজার আনা হয় তাঁদের। অভিযুক্তদের এ দিনই ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Shares

Comments are closed.