উমফানের ত্রাণ দুর্নীতি নিয়েই খুনোখুনি কুলতলিতে, লাইন দিয়ে ছাই হল বাড়ি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দিনভর চলা রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছেন দু’জন। লাইন দিয়ে ছাই হয়ে গিয়েছে বাড়ি। জানা যাচ্ছে, সেই বীভৎস তাণ্ডবলীলার নেপথ্যে রয়েছে উমফানের ত্রাণ দুর্নীতি।

    এতদিন পর্যন্ত উমফানের ত্রাণ নিয়ে শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের দুর্নীতির অভিযোগে বিডিও অফিস ঘেরাও, বিক্ষোভ হচ্ছিল। এবার তা নিয়ে খুনোখুনির ঘটনা ঘটল কুলতলি ব্লকের মৈপীঠে। নিহত অশ্বিনী মান্না (৫০) তৃণমূল কর্মী ও সুধাংশু জানা (৫২) এসইউসিআইয়ের জেলা কমিটির সদস্য।

    শুক্রবার রাতে ঘটনার সূত্রপাত। তৃণমূলের অভিযোগ, গতকাল রাত আটটা নাগাদ দলীয় কাজকর্ম সেরে বাড়ি ফিরছিলেন তাদের দলের দুই কর্মী অশ্বিনী মান্না ও নবকুমার গিরি। সেই সময়ে তাঁদের পথ আটকে দাঁড়ায়  এসইউসিআই এবং সিপিএমের কয়েকশো কর্মী। লাঠি, রড, দা ও কুড়ুল দিয়ে ওই দুই তৃণমূল কর্মীকে তারা  এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। স্থানীয়রা বেরিয়ে এসে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে জামতলা গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান ওই দুজনকে। সেখানে চিকিৎসকরা অশ্বিনী মান্নাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নবকুমার গিরির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় ।

    ভোরের আলো ফোটার আগেই শুরু হয় পাল্টা হামলা। এসইউসিআইয়ের অভিযোগ, তৃণমূলের নেতারা উমফানের টাকা লুঠ করছে। গত এক মাস ধরেই তার বিরুদ্ধে গ্রামের মানুষকে সংগঠিত করে আন্দোলন করছিলেন সুধাংশু। তাই বদলা নিতে আজ সকালে তাঁর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে দেয় তাঁকে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সুধাংশুর মৃত্যুর খবর চাউর হতে ফের ময়দানে নেমে পড়ে এসইউসিআই ও সিপিএমের কয়েকশ লোক। তারা একের পর এক তৃণমূলকর্মীর বাড়িতে আগুন দিতে থাকে। অন্যদিকে তৃণমূলও লোক জুটিয়ে সিপিএম ও এসইউসিআই কর্মীদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া শুরু করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মৈপীঠ কোস্টাল থানার পুলিশ।

    বামেদের দাবি, গতকাল রাতের ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই। তৃণমূলের নেতারা ক্ষতিপূরণের টাকা দুর্গতদের না দিয়ে শালি-ভায়রাভাইদের অ্যাকাউন্টে দিচ্ছিল। তাই সাধারণ গ্রামবাসীদের জনরোষ আছড়ে পড়েছিল অশ্বিনীদের উপর।

    এসইউসিআইয়ের প্রাক্তন সাংসদ তথা ডাক্তার তরুণ নস্কর বলেন, তৃণমূলের লুঠের প্রতিবাদ করাতেই এই ঘটনা ঘটেছে। শাসকদলের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী বলেন, মৈপীঠের জনপ্রিয় নেতা ছিলেন অশ্বিনী। তাঁকে সিপিএম আর এসইউসিআইয়ের লোকজন মিলে খুন করেছে। আজ সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় যারা যুক্ত, প্রশাসন তাদের কাউকে ছাড়বে না।

    প্রসঙ্গত কুলতলির ওই এলাকা এসইউসিআইয়ের শক্ত ঘাঁটি। ২০০৯ সালে জয়নগর কেন্দ্রে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করে জিতেছিল এসইউসিআই। কিন্তু সেই জোট অনেকদিনই নেই। আগে যে সিপিএমের সঙ্গে এসইউসিআইয়ের সাপে-নেউলে সম্পর্ক ছিল, এখন তারাই এক হয়ে আন্দোলন করছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও সিপিএম নেতারা বলছেন, এটা কোনও দলীয় আন্দোলন নয়। সাধারণ মানুষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষেপে গিয়েছে। আর প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ। রাত পর্যন্ত খবর এসএসকেএমে চিকিৎসাধীন নবকুমার গিরির অবস্থা সংকটজনক। এলাকায় মোয়ায়েন করা হয়েছে বিরাট পুলিশবাহিনী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More