‘নিয়োগ’ নিয়ে জলপাইগুড়ির তৃণমূল জেলা সভাপতির চিঠি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে, ‘ফাঁস’ করল বিজেপি!

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: একটি চিঠি নিয়ে তোলপাড় জলপাইগুড়ি জেলার রাজনীতি। তৃণমূলের জেলা সভাপতি চিঠি লিখেছিলেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে। শনিবারের বার বেলায় দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে সেই চিঠি ফাঁস করল বিজেপি। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিল তৃণমূল।

কী রয়েছে ওই চিঠিতে?

বিজেপির অভিযোগ, স্বরূপ মণ্ডল, শুভঙ্কর মিশ্র, পল্লব দাস ও শম্ভু দাস—এই চার তৃণমূলকর্মীর নাল লেখা রয়েছে ওই চিঠিতে। তাতে নাকি তৃনমূলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ কুমার কল্যাণী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে সুপারিশ করেছেন, এই চার জনকে কোভিড মোকাবিলার স্বাস্থ্য দফতরের কাজে নিয়োগ করার জন্য। এমনটাই অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের।

বিজেপির জেলা সভাপতি বাপি গোস্বামী বলেন, যে চার জনের নাম তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুপারিশ করেছেন, তাঁরা কেউ স্বাস্থ্যকর্মী নন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাঁদের কোনও কাজের অভিজ্ঞতাই নেই। তাহলে কি শুধু তৃণমূলের কর্মী বলেই এই নিয়োগের সুপারিশ? বিজেপির আরও অভিযোগ, এর মধ্যে অন্য মতলব রয়েছে শাসকদলের। গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম, কিট ইত্যাদি পাঠাচ্ছে। দলের কর্মীদের দিয়ে সে সব খোলা বাজারে এনে বিক্রির উদ্দেশেই তৃণমূল এই চিঠি লিখেছে।

এ নিয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ কুমার কল্যাণীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিজেপির অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। তবে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে যে তিনি চিঠি লিখেছেন তা পরোক্ষে স্বীকার করে নিয়েছেন কৃষ্ণবাবু। তাঁর কথায়, “জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলমত নির্বিশেষে করোনা আক্রান্তদের পরিবার প্রতিনিয়ত আমাকে বিভিন্ন সাহায্যের জন্য ফোন করে। করোনা পরিস্থিতিতে আমার একার পক্ষে এই কাজ করা সম্ভব নয়। তাই আমি চার জনের নাম মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে দিয়েছি। যাঁরা কোভিড মোকাবিলায় দলের হয়ে সাধারন মানুষ ও স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে চলবে।” তাঁর আরও বক্তব্য, “এর মানে এই নয় যে, এই চার জন শুধু তৃণমূলের পরিবারকেই সাহায্য করবে।”

জেলার রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, এমনিতেই জলপাইগুড়ি তৃণমূলের অবস্থা বিশেষ ভাল নয়। একে তো উনিশের ভোটে পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে। তার উপর গত মাসেই দেখা গিয়েছিল অরূপ বিশ্বাস, মলয় ঘটকদের সামনে অব্যন্তরীণ কোন্দল। যা পার্টি অফিস থেকে নেমে এসেছিল একেবারে খোলা রাস্তায়। এবার এই চিঠি কাণ্ড শাসকদলের উপর চাপ বাড়াবে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের অনেকের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More